ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ব্যাটারিচালিত রিকশা গলার কাঁটা, দিনে গিলছে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

তৌহিদুজ্জামান তন্ময় | প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা
  • প্রতিটি রিকশায় ৪-৬টি (১২ ভোল্ট) ব্যাটারি
  • প্রতিদিন চার্জে লাগে ৬-৮ ইউনিট বিদ্যুৎ
  • রাজধানীতে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট
  • অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি লাইন নিয়ে চার্জ
  • বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি
  • জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল বিশ্ব। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে সরকার। পাশাপাশি কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক এ সংকটেও দেশে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে দেদারসে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় রোধে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। অথচ, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে এসব অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য বলছে, প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে অন্তত ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। এসব চার্জিং স্টেশনের বৈদ্যুতিক লাইনের বেশিরভাগই নেওয়া অবৈধ উপায়ে। এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষফোড়ার মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন গলার কাঁটা। দুর্ঘটনার হিসাব ছাড়াও অন্তত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হলে এসব রিকশা নিয়ম-কানুনের মধ্যে আনা জরুরি। শহর কিংবা গ্রাম-গঞ্জে অনেকেই বাসাবাড়ির সংযোগ থেকে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছেন। ফলে বাসাবাড়ির লাইনের বিদ্যুৎ ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা যে বিল দিচ্ছেন, তা বাণিজ্যিক হারের তুলনায় অনেক কম। আবার অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, যা সিস্টেম লস হিসেবে বিবেচিত। এর ফলেও বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, সারা দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশা। এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের, চার্জ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা।

সারা দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশা। এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো।

প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জ হতে দিনে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতিদিন শুধু ঢাকা শহরেই ২০ লাখ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

বেশিরভাগ চার্জিং স্টেশনই অবৈধ
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য খোদ মন্ত্রণালয় থেকেই ৩ হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিপিডিসির অনুমোদনে ২ হাজার ২০১টি বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ডিপিডিসির মোট চাহিদার প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের এই বৈধ চার্জিং স্টেশনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রয়েছে অবৈধ চার্জিং স্টেশন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১০টি অপরাধ বিভাগের ৮টিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। এরপরও অন্তত ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে।

আরও পড়ুন
ঢাকার সড়কের ‘বিষফোড়া’ ব্যাটারিচালিত রিকশা 
ঢাকায় ছিনতাইকারীর নতুন হাতিয়ার ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা’ 
অটোর দাপটে দুর্দশায় প্যাডেল রিকশাচালকরা 

এর মধ্যে মিরপুর বিভাগের ৭ থানায় ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ রয়েছে। ওয়ারী বিভাগে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। গুলশান বিভাগে রয়েছে ২ হাজার ৬৪৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ। উত্তরা বিভাগে এক হাজার ৩০৫টি চার্জিং পয়েন্ট ও ৭২টি গ্যারেজ রয়েছে। মতিঝিল বিভাগে রয়েছে এক হাজার ৩৯০টি চার্জিং পয়েন্ট ও ৬০টি গ্যারেজ। এছাড়া লালবাগ বিভাগে ১৯৯টি চার্জিং পয়েন্ট ও ৭৭টি গ্যারেজ, তেজগাঁও বিভাগে ২৩৪টি এবং রমনা বিভাগে অন্তত ২৬টি অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজের প্রতিটিতে দিনে অন্তত ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা রাখা হয়। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজেই রয়েছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সুবিধা। কোনো কোনো গ্যারেজ মালিক প্রতিদিন জমার টাকার সঙ্গে চার্জের টাকাও নেন। কেউ আবার গ্যারেজ না থাকায় ব্যক্তিগত অটোরিকশা টাকার বিনিময়ে অন্যের গ্যারেজে চার্জ দেন।

ফুটপাত থেকে সরাসরি লাইনে চলছে চার্জিং ব্যবসা
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার বিএসটিআই সংলগ্ন সড়কের দুই পাশের ফুটপাত জুড়ে গড়ে উঠেছে রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের একাধিক স্টেশন। বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে হুক বাঁধিয়ে সরাসরি লাইন টেনে শত শত রিকশার ব্যাটারি দিন-রাত চার্জ করা হয়। শুধু বিএসটিআই রোড নয়, আশপাশের প্রায় প্রতিটি গলিতেই একই অবস্থা।

রিকশার অবৈধ চার্জিং ব্যবসায় জড়িত সাইফুল নামের এক যুবক জাগো নিউজকে বলেন, আমরা তো বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে চাই, কিন্তু ফুটপাতে এক একটি মিটার নিতেই ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই অবৈধভাবে চার্জ করাচ্ছি।

তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই আমাদের এখানে অভিযান চলে। ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশনের লোকজন সব নিয়ে চলে যায়। কিন্তু কী করবো, বাধ্য হয়ে আবারও চলে আসি। শুধু আমি না, এই এলাকার প্রতিটি রাস্তার পাশেই এভাবে তার টেনে ফুটপাতে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়।

jagonews24.com

রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডির রায়ের বাজার এলাকার এক রিকশা গ্যারেজে গিয়েও দেখা মেলে একই চিত্র। রাস্তার পাশে সুকৌশলে বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে হুক বাঁধিয়ে মোটা তার নামিয়ে দেদারছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্যারেজটির মালিক বলেন, বৈধভাবে মিটার নিলে খরচ পোষানো সম্ভব নয়, তাই এই পথ নিয়েছি। আমার এখানে দিন-রাত মিলিয়ে অন্তত ১৮০টি রিকশা চার্জ করা হয়। এক-একটি রিকশার ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা জমার টাকার সঙ্গে চার্জের খরচ নিয়ে নেই, এখানে জমা ৪০০ টাকা।

তিনি বলেন, হাজারীবাগ, বেড়িবাঁধ, বালুরমাঠ, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, লাগবাগসহ আশপাশের সব এলাকাতেই একইভাবে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়।

কথা হয় খিলগাঁও এলাকার অটোরিকশার মালিক মো. আমিনুলের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমার ১৫টি রিকশা আছে, কিন্তু জায়গা না থাকায় কোনো গ্যারেজ নেই। আরেক জনের গ্যারেজে চার্জ দেই। প্রতিমাসে আমার ৩ হাজার ৬০০ টাকা গ্যারেজ ভাড়া দেওয়া লাগে।

গ্রামীণ এলাকায় অনেকেই বাসাবাড়ির সংযোগ থেকে ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছেন। ফলে ডোমেস্টিক লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা যে বিল দিচ্ছেন, তা বাণিজ্যিক হারের তুলনায় অনেক কম। আবার অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, যা সিস্টেম লস হিসেবে দেখানো হয়।- বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন

এছাড়াও হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, কমলাপুর, সবুজবাগ, মান্ডা, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গীতে অন্তত এক হাজার অটোরিকশা কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এসব কারখানায় শত শত রিকশা তৈরি হচ্ছে। ঋণ করে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা জোগাতে পারলেই একটা অটোরিকশা কিনে রাস্তায় নেমে পড়ছে। চার্জেরও সমস্যা নেই। কারও গ্যারেজে দিনপ্রতি টাকা দিলেই ব্যাটারি চার্জ করানো যায়।

নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু মফস্বল বা গ্রাম অঞ্চলের সব জায়গায় একইভাবে বিদ্যুৎ থাকে না, লোডশেডিং করতে হয়। ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য অনেক বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। সরকারকে এ ব্যাপারে এখনই কঠোর হতে হবে। গরম বাড়লেই লোডশেডিং বাড়বে। দিনে দিনে এই সমস্যা আরও বাড়বে। যেসব দেশ গাড়ি তৈরি করেছে তারা এখন বাইসাইকেল ফ্রেন্ডলি শহর করছে, পথচারী-বান্ধব শহর করছে। অথচ আমরা যাচ্ছি উল্টো পথে।

আরও পড়ুন
রাজধানীতে ৪৮ হাজার অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে: সিপিডি 
‘রিকশা ট্র্যাপার’ যেন নিজেই ‘ট্র্যাপে’! 
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ‘বাধা’ ব্যাটারিচালিত রিকশা 

বাসাবাড়ির সংযোগ থেকে ব্যাটারি চার্জ, বাড়ছে চাপ
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জে খরচ হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গত কয়েক বছর ধরে ব্যাটারি চার্জিংয়ে মোট বিদ্যুৎ খরচের একটি হিসাব দিচ্ছে। তবে সেখানে কেবল বৈধ সংযোগের তথ্যই আসছে। গ্রামীণ এলাকায় অনেকেই বাসাবাড়ির সংযোগ থেকে ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছেন। ফলে ডোমেস্টিক লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা যে বিল দিচ্ছেন, তা বাণিজ্যিক হারের তুলনায় অনেক কম। আবার অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, যা সিস্টেম লস হিসেবে দেখানো হয়। সরকার যেখানে সিস্টেম লস ১.২৫ শতাংশ দেখাচ্ছে, বাস্তবে তা ২ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকট ও লোড ব্যবস্থাপনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এই যানগুলো এখন পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, এগুলো হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করতে হবে।

সমাধান হিসেবে ড. ইজাজ হোসেন সৌরশক্তিভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা চালু এবং বৈধ সংযোগের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চার্জিং সিস্টেম যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং সঠিক বিল আদায় নিশ্চিত করা যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয় বাড়াবে লোডশেডিং
এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ গিলে ফেলছে। সবচেয়ে কমও যদি ধরি তাহলে শুধু ঢাকাতেই দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার বড় অংশই আসছে অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে। শুধু ঢাকা শহর থেকেই ব্যাটারিচালিত রিকশার অব্যবস্থাপনার কারণে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এই অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে জাতীয় গ্রিডের ওপর ভয়াবহ চাপ তৈরি হচ্ছে। যার ফল হিসেবে লোডশেডিং বাড়ানো ছাড়া সরকারের হাতে কার্যত কোনো বিকল্প থাকে না।

ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ গিলে ফেলছে। সবচেয়ে কমও যদি ধরি তাহলে শুধু ঢাকাতেই দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার বড় অংশই আসছে অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে। - বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয়ের প্রভাব ভবিষ্যতে সরাসরি পড়বে কৃষি ও সাধারণ মানুষের ওপর। সেচ ব্যাহত হবে, বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম। অবৈধ চার্জিং স্টেশন ও বিদ্যুৎ চুরি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

সমাধানের বিষয়ে অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, প্রথমত, নতুন করে যেন আর কোনো রিকশা রাস্তায় না নামে তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে এই রিকশার মোটরগুলো দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। এই মোটর আমদানি কাল থেকেই বন্ধ করা উচিত। দ্বিতীয়ত, যেসব অবৈধ ওয়ার্কশপে এগুলো তৈরি হচ্ছে সেখানে অভিযান চালাতে হবে। তৃতীয়ত, অবৈধ চার্জিং স্টেশন ও বিদ্যুৎ চুরি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। এরপর যারা রাস্তায় নেমে গেছে, তাদের জন্য নীতিমালা বা স্টান্ডার্ড ঠিক করে দিতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, এনআইডি ও নিবন্ধনের আওতায় আনলে দেখা যাবে অনেক রিকশাই আর রাস্তায় নামার যোগ্যতা রাখবে না।

টিটি/কেএসআর