বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ পাস, স্বীকৃতি পেলো আবৃত্তি
জাতীয় সংসদ অধিবেশন
বাঙালি সংস্কৃতি ও শুদ্ধ ভাষাচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ‘আবৃত্তি’ অবশেষে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলো। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
সংশোধনীতে একাডেমির বিভাগগুলোর তালিকায় আবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ নামে নতুন বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আবৃত্তিশিল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও কর্মসূচির অবসান ঘটলো।
দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও আবৃত্তিপ্রেমীরা শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে এবং পরে ঢাকায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অবশেষে এ বিল পাসের মাধ্যমে আবৃত্তিশিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে।
আবৃত্তিকে শিল্পকলা একাডেমির অধ্যাদেশে স্বীকৃতি দেওয়ার এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সম্প্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে আধা-সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দেন। তার এ প্রস্তাবনা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের তৎপরতায় বিলটি প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ সংসদে পাস হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় সাঈদ আল নোমান বলেন, আবৃত্তি মানুষের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করে এবং ব্যক্তিজীবন ছাড়িয়ে জাতির চিন্তাশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার মতে, নজরুল, রবীন্দ্রনাথসহ কবিতা ও সাহিত্য— এসবের সঙ্গে আবৃত্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত; একে বাদ দিলে সংস্কৃতি যেন অপূর্ণ থেকে যায়। দ্রুততার সঙ্গে তার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র একাডেমিক বিভাগের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহনকারী এ রাষ্ট্রে আবৃত্তিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া ছিল সময়ের দাবি। এ সিদ্ধান্তের ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ ভাষা ও নন্দনতত্ত্বের চর্চা আরও বেগবান হবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, শিল্পকলা একাডেমির বিভাগ সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের ‘নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগটি পরিমার্জন করে ‘আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ নামে নতুনভাবে গঠন করা হয়েছে। এতে আবৃত্তিশিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পর সারাদেশের আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও আবৃত্তিপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের সাড়া পড়ে। ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’-এর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং আবৃত্তি আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও অগ্রজদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
তারা জানান, এই আইনি স্বীকৃতির ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আবৃত্তিশিল্পীদের মূল্যায়ন বাড়বে এবং এই শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় বাজেট ও কাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এমডিআইএইচ/এমএএইচ/