চিকিৎসকের কাছে যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা
শ্যামলীর এক হাসপাতালে চাঁদার দাবিতে স্টাফদের হুমকি দেন যুবদলের এক নেতা/ ছবি- সংগৃহীত
সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে যুবদলের পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈনকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।
গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁও বিভাগের শেরেবাংলা নগর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আক্কাস আলী বলেন, হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতপরিচয় উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী আসামিদের দাবি করা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উশৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি।
এতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামি মঈনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭/৮ জন আসামিরা ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগাল করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলে- ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব’ মর্মে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ওই ঘটনার বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনেন।
আরও পড়ুন
চিকিৎসকের কাছে যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবি, দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস
ফুয়েল পাস উদ্যোগে হোঁচট, সার্ভার জটিলতায় কার্যক্রম বন্ধ
এর আগে শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে রাজধানীর শ্যামলীতে ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে ছুটে যান যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার হাসপাতালে ছুটে গেছেন যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা ঘটনায় জড়িত মো. মঈন উদ্দিন মঈনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেফতারে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
এর আগে, ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে দলবল নিয়ে হাজির স্থানীয় এক নেতা। এরপর যুবদল পরিচয় দিয়ে চাঁদার দাবিতে হাসপাতালের স্টাফদের হুমকি দিচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে চাঁদা-দাবি করে আসছেন স্থানীয় এই নেতা। ডা. কামরুল ইসলামকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে মব তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কেআর/কেএসআর