পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ চালু, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির নতুন অধ্যায়
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষক সমাজের সরাসরি ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ থেকে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষক এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আসবেন। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নীতিতে বিশ্বাসী এবং দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ কেবল কার্ড বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ কার্ডের আওতায় কৃষকরা সরাসরি আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন। পাশাপাশি সার, উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা ও কীটনাশক ন্যায্য দামে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এছাড়া কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ক্ষতি মোকাবিলায় ‘কৃষি বিমা’র বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুবিধা এবং কৃষকদের নিয়মিত উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। সরকারি ভর্তুকি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এ কর্মসূচির পরিধি শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এতে মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও চাষাবাদ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এ কর্মসূচি বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, যার মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে নারীদের ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে, আর তারই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও রিকশা শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দুর্নীতি কমিয়ে এবং কার্যকর প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। পাশাপাশি যেসব প্রকল্প আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না, সেগুলো পুনর্বিন্যাস ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে।
কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আরও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।
কেএইচ/এমএএইচ/
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ ঢাকার সড়ক-ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী, শিগগির অভিযানে নামছে ডিএমপি
- ২ বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিকায়নে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৩ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ ও সরাসরি ফ্লাইট চালু নিয়ে আলোচনা
- ৪ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির সহযোগিতা চাইলেন আইজিপি
- ৫ নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত