ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

নাগরদোলায় চড়ে ছোট্ট রূপকথার যেন আনন্দের শেষ নেই

আশিকুজ্জামান | প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। রাজধানীতে বর্ষবরণের শোভাযাত্রা থেকে বৈশাখী মেলা- সব আয়োজনে ঢল নেমেছে মানুষের। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে এসব আয়োজন।

পহেলা বৈশাখের উৎসবে মাতোয়ারা সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রূপকথা। বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বৈশাখী মেলায়। মেলায় এসে ছোট্ট রূপকথা নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে পেয়েছে। বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলায় ঢুকেই তার চোখ আটকে যায় নাগরদোলায়। একবার নয়, দু’বার উঠে ফেলেছে। তবুও মন ভরেনি। আবার উঠবে, এই বায়নাতেই ব্যস্ত সে।

jagonews24

রূপকথার মুখে উচ্ছ্বাসের আবদার। তার মতো অনেক শিশুই মেলায় এসে মেতে উঠেছে বৈশাখী আনন্দে।

মেলায় কথা হয় রূপকথার বাবার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বললেন, ‘এই প্রথম সে নাগরদোলায় উঠলো। ঢাকায় তো সেভাবে মেলা বা খোলা জায়গা পাওয়া যায় না। আজ বৈশাখের দিনে মেলায় এসে ও খুব খুশি। নাগরদোলা তার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।’

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের খেলার মাঠ এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৈশাখী মেলা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন আর বন্ধুদের নিয়ে মানুষের ঢল নেমেছে। মেলার ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে একের পর এক আয়োজন। নাগরদোলা, খেলনা ট্রেন, ঘোড়ারগাড়ি, জাম্পিং জোন, আর পাশে সারি সারি দোকানে মিষ্টি, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা, রঙিন খেলনা। ছিল বায়োস্কোপ ও সাপ খেলা দেখানোর আয়োজন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলায় ভিড় থাকতে থাকে।

jagonews24

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এখানে এসে মনে হচ্ছে শৈশবটা আবার ফিরে পেয়েছি।’

অভিভাবক নাজমা আক্তার বললেন, ‘শিশুদের জন্য এমন আয়োজন খুব দরকার। ওরা বইয়ের বাইরে এসে বাস্তবে উৎসবটা দেখতে পারছে, এটাই বড় বিষয়।’

দোকানি আব্দুল কাদের বলেন, ‘বৈশাখ মানেই বেচাকেনার আনন্দও। ছোট ছোট জিনিস, বাতাসা, খেলনা সবকিছুতেই মানুষের আগ্রহ আছে।’

ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় জায়গার সীমাবদ্ধতা আছে। অনেকেই চাইলেও রমনার বটমূলে যেতে পারে না। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা অনেক সময় বঞ্চিত হয়। সেই চিন্তা থেকেই আমরা এই আয়োজন করেছি। এখানে সীমিত পরিসরে হলেও বাঙালিয়ানা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সকাল থেকেই শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চলবে।’

jagonews24

আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের খেলার মাঠের বৈশাখী মেলায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনের পাশাপাশি বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে মেলাও ঘুরে দেখছিলেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে তুলছিলেন ছবি, করছিলেন ভিডিও।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। পুরান ঢাকায় এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিবেশটাও খুব প্রাণবন্ত।’

jagonews24

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুদিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন মূলত দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসার জন্য। আমরা চাই স্থানীয় মানুষজন পরিবার নিয়ে এসে এই উৎসবে অংশ নিক, নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হোক।’

এমডিএএ/ইএ/বিএ