কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে : আব্দুল আওয়াল
উত্তর জনপদের কৃষিনির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁও। এই অঞ্চলের ৮০ ভাগ মানুষই কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জেলার উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ বা রফতানির কোনো ব্যবস্থা নেই। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও গড়ে ওঠেনি কোনো শিল্প কল-কারখানা ।
সম্প্রতি এসব বিষয় গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। ভাবছেন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন নিয়ে, জেলার মানুষকে নিয়ে।
বুধবার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম’র সঙ্গে জেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।
শুরুতেই ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য তিনি একটি সুখবর দেন। তিনি জানান, শিগগিরই কৃষিভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণ করা হবে এ জেলায়।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে ইপিজেড স্থাপনের কার্যক্রম শুরুর জন্য নির্দেশনাও আসে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ইপিজেড স্থাপনের জন্য কাজ শুরু করেছে। প্রায় ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা জানান তিনি। ইপিজেড স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।
তিনি জানান, এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে তেমন ভারি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। ভারি শিল্পের মধ্যে শুধু পুরনো চিনিকল ও রেশম কারখানাটি। ইতোমধ্যে চিনিকলটি আধুনিকায়নের জন্য ৭টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আধুনিকায়ন হলে চিনিকলের উৎপাদন বাড়বে। কৃষক আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। চিনিকলের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রেশম কারখানাটি বন্ধ। এ কারখানাটি চলতি বছরের মধ্যেই চালুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চালুর লক্ষে ইতোমধ্যে সার্ক দেশভুক্ত দলের কয়েকজন প্রতিনিধি পরিদর্শন করেছে রেশম কারখানাটি। প্রতিনিধি দল ইতিবাচক মন্তব্য করেছে চালুর জন্য। তাই রেশম কারখানাটি যেন দ্রুত চালু হয় সেজন্যই প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এটি চালু হলে উৎপাদিত হবে দেশের সুনামধন্য মুসলিন কাপড়। আবারো কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে প্রায় ১০ হাজার রেশম চাষির।20170125202914.jpg)
জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি করেছেন, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অসংখ্য ছোটবড় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি হত-দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি।
জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত স্কুল পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। জেলার শিক্ষার্থীরা যেন ভালো ফলাফল করতে পারে সেজন্য শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। কারণ একজন ভালো শিক্ষকই পাড়ে ভালো শিক্ষার্থী তৈরি করতে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলাকে দেশের কাছে তুলে ধরার জন্য পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার কাজ করছে প্রশাসন। জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুই বিঘা জমির উপর প্রাচীন আম গাছ ঘিরে পর্যটন এলাকা গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অতিদ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় মত প্রকাশ করেছেন।
যতদিন ঠাকুরগাঁও জেলায় কর্মরত রয়েছি যেন দায়িত্বটুকু ন্যায় নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে যেতে পারি এজন্য জেলাবাসীর সহযোগিতা চাই বলে জানালেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।
এমএএস/আরআইপি