ভিডিও EN
  1. Home/
  2. জাতীয়

আইন প্রয়োগের দুর্বলতায় শব্দদূষণ মাত্রাতিরিক্ত

প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭

জনসচেতনতার অভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতায় শব্দদূষণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পোঁছেছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধি-বিধান থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকায় রাজধানীতে শব্দদূষণের মাত্রা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে জনগণের অচেতনতা ও অবহেলাও শব্দ দূষণের জন্য দায়ী।

মঙ্গলবার পবা মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরীতে শব্দদূষণের বর্তমান চিত্র ও করণীয়-শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন আলোচকরা।পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।

ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ক্রমাগত শব্দদূষণের ফলে কানের টিস্যুগুলো আস্তে আস্তে বিকল হয়ে পড়ে। তখন মানুষ আর স্বাভাবিক শব্দ কানে শুনতে পায় না। শব্দদূষণের কুফল বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব এবং শব্দদূষণ প্রতিরোধে যথাযথ প্রশাসনিক নজরদারি ও পদক্ষেপের ঘাটতির কারণেই এমনটি হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, `শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬ এর আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক বা শিল্প এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।এসব এলাকায় শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা অতিক্রম করতে পারবে না।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) জানুয়ারি ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি স্থানে শব্দের মাত্রা পরিমাপ  করে। স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, এয়ারপোর্ট, কুড়িল বিশ্ব রোড, মহাখালী, ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত, আজিমপুর, নিউ মার্কেট, সাইন্স ল্যাব, কলাবাগান, ধানমন্ডি, পান্থপথ, ধানমন্ডি ২৭, কলেজ গেইট, শ্যামলী, টেকনিক্যাল, মিরপুর। জরিপকৃত স্থানগুলো নীরব, আবাসিক, মিশ্র ও বাণিজ্যিক এলাকা। নীরব এলাকায় দিবাকালীন, আবাসিক এলাকায় দিবাকালীন ও রাত্রিকালীন, মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন ও রাত্রিকালীন এবং বাণিজ্যিক এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এছাড়া বাসের ভিতর সামনে ও পিছনে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।
 
নীরব এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা ৮৩.৩ থেকে ১০৪.৪ ডেসিবল। আবাসিক এলাকায় দিবাকালীন ৯২.২ থেকে ৯৭.৮ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন ৬৮.৭ থেকে ৮৩.৬ ডেসিবল। মিশ্র এলাকায় দিবাকালীন ৮৫.৭ থেকে ১০৫.৫ ডেসিবল এবং রাত্রিকালীন ৮৫.৭ থেকে ১০৬.৪ ডেসিবল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিবাকালীন শব্দের মাত্রা ৯৪.৩ থেকে ১০৮.১ ডেসিবল। বাসের ভিতর শব্দের মাত্রা সামনে ৯৩.৬ থেকে ৯৫.২ ডেসিবল ও পিছনে ৮৪.৬ থেকে ৮৫.৪ ডেসিবল। বাংলামোটরে এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজানোকালে শব্দের মাত্রা ১১০.১ ডেসিবল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শব্দের মাত্রা ৯৫.৮ থেকে ৯৬.৭ ডেসিবল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মডার্ণ ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসানাত, পবা’র সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, সদস্য ক্যামেলিয়া চৌধুরী, বিসিএইচআরডির সভাপতি মাহবুবুল হক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ প্রমুখ।

এএস/ওআর/আরআইপি