নদী ভাঙনও ভাঙতে পারেনি সম্পীতি
কয়েক গ্রামের মানুষ ‘সুজন একাডেমি ঈদগাহ’ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে পদ্মানদীর ভাঙনে আজ একই জামাতের কিছু মানুষ নদীর এপারে কিছু মানুষ ওপারে। তবে সর্বনাশা পদ্মানদী মানুষগুলোর মধ্যে সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটালেও নৌকায় নদী পার হয়ে একই ঈদগাহে নামাজ আদায় করছেন। নদী ভাঙনেও মানুষের মধ্যকার সম্পীতি ভাঙতে পারেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর থানার ১৬নং সুন্দরপুর ইউনিয়নে সুজন একাডেমি ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহটি বর্তমানে পদ্মানদীর তীরে অবস্থিত। ঈদগাটির নামকরণ করা হয়েছিল সুন্দরপুর, জয়েন্দীপুর ও নবাবজায়গীর তিন গ্রামের প্রথম অক্ষর (সুজন) দিয়ে। কিন্তু পদ্মানদীর আগ্রাসী ভাঙনে সুন্দরপুর ও জয়েন্দীপরু গ্রাম দুটি পুরোটাই বিলিন হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়েই এই দুই গ্রামের কিছু মানুষ অন্য গ্রামে ঘর বেঁধেছেন।
অন্যদিকে কিছু মানুষ জীবিকার তাগিদে বসতি গড়েছেন নদীর বুকে জেগে উঠা চরে। এমনকি চরের বুকে ঈদগাহ ময়দানও তৈরি করেছেন তারা। কিন্তু সুজন একাডেমি ঈদগাহ জামাতের মানুষগুলো চরের ঈদগাহে নামাজ পরতে নারাজ। শত কষ্টে হলেও নদী পার হয়ে বাপ-দাদার আদি জামাতেই নামাজ পড়তে চান তারা।

এলাকার বয়স্ক মুসল্লি একরামুল মিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই সুজন একাডেমি ঈদগাহে নামাজ পড়ছি। এখানকার প্রায় সব মুসল্লিই চেনা-জানা। এপারে বাড়ি থাকার সময় সবার সাথেই দুই একদিন পরপর দেখা হতো। কিন্তু সর্বনাশা পদ্মানদীর ভাঙন আমাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারপরও এখানকার মানুষগুলোর সঙ্গে বছরে অন্তত দুইটা দিন দেখা করার লোভেই নদী পাড়ি দিয়ে নামাজ আদায় করতে আসি। যে কয়টা দিন বাঁচবো এই ঈদগাহেই নামাজ পরবো। চরের ঈদগাহে নামাজ পড়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
মমিনুল ইসলাম নামে আরও একজন জানান, জীবিকার তাগিদে চরে বসবাস করছি তবে মন সবসময় পড়ে থাকে ওপারে। সুযোগ পেলেই পরিচিত মুখগুলোকে দেখতে ছুটে আসি। আর ঈদের নামাজ পড়তে না আসার তো প্রশ্নই উঠে না। সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার মজাই আলাদা। শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত এ ঈদগাহেই নামাজ আদায় করতে চাই।
এমইউএইচ/আরএস/এমএস