ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ভাঙন থেকে হাতিয়াকে রক্ষার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৮

ব্লক নির্মাণসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অব্যাহত নদী ভাঙণের কবল থেকে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপবাসীরা। একই সঙ্গে জেলা সদরের সঙ্গে দ্বীপবাসীর যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বর সি-ট্রাক প্রত্যাহার করে একাধিক অত্যাধুনিক লঞ্চ চালুর দাবি জানান তারা।

রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ঢাকাস্থ হাতিয়া কেন্দ্রিক সংগঠন ‘হাতিয়া নদী ভাঙন রোধ কমিটি’ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেঘনার তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে দ্বীপ উপজেলাটি। ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে দেশের মানচিত্রে হাতিয়ার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে না। মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ২১০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ হাতিয়ায় এখন মাত্র এক হাজার কিলোমিটারে বিদ্যমান। ভাঙনের কারণে প্রতিবছর দ্বীপের মূল ভূ-খণ্ড থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দ্বীপের দুটি ইউনিয়ন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যদিও নতুন জেগে ওঠা আপর দুটি চরকে হারিয়ে যাওয়া ওই দুটি ইউনিয়নের নামে ঘোষণা করা হয়েছে।

পর্যটনের বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, হাতিয়া দ্বীপের দক্ষিণে চর মিজান, দমারচর, মাইদুল, নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, জাগলারচর, কাজির বাজার ও ভার্জিন সি বিচ রয়েছে। যেগুলো পর্যটনপ্রেমিদের কাছে অনেক প্রিয়। অর্থনৈতিক জোন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও হাতিয়ার প্রতি সরকারের বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। হাতিয়া বাংলাদেশের একমাত্র উপজেলা, যার অভ্যন্তরীণ শতাধিক মাইল নৌ-সীমা রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমাও রয়েছে। তাই দ্বীপ হাতিয়াকে রক্ষা করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, ৬০-এর দশক থেকে হাতিয়ার নদী ভাঙন সমস্যা তীব্রতর হয়ে ওঠে। ভাঙনে বিগত ৬০ বছরে হাতিয়ার প্রায় ৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে যে এলাকাগুলো হারিয়ে গেছে তার পুরোটাই ছিল সমৃদ্ধ জনপদ। এলাকাগুলোতে ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণ এবং উন্নয়নের পটভূমি।

বিগত সময়ে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহর, বৃটিশ আমলে নির্মিত আদালত ভবন, সরকারি হাসপাতাল, ডাক বাংলো, কারুকার্যমণ্ডিত প্রাচীন জামে মসজিদ, সরকারি কলেজসহ নামি-দামি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিলক্ষ্মী, সাগরদী, হরণী-চানন্দী ও নলচিরা ইউনিয়ন সম্পূর্ণই নদীগর্ভে। চরঈশ্বরের পূর্বাঞ্চল, সুখচর, তমরুদ্দিন ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমাঞ্চলও বিলীন হওয়ার পথে। সামান্য অংশে ব্লক নির্মাণ করে দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র তমরদ্দি বাজার রক্ষা করা হয়েছে। আমরা চাই অন্যান্য এলাকাগুলোও ঠিক একইভাবে রক্ষা করা হোক।

বর্তমানে হুমকির মুখে কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদসহ সমৃদ্ধ জনপদ আফাজিয়া বাজার। ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হলে এলাকাগুলোতে ব্লকবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। নৌ-পথই হাতিয়ার সাথে মূল ভূ-খণ্ডে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। হাতিয়া হতে নোয়াখালী জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য বিআইডব্লিউটিসির দু’টি সি-ট্রাক রয়েছে। এগুলো অচল বলে প্রায়ই বন্ধ রেখে ট্রলারে করে যাত্রী পারাপার করা হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী।

মানববন্ধনে আয়োজক সংগঠনের আনোয়ার হোসেন রতন, ডা. মো. ফজলে এলাহী মিলাদ, মো. জাফর উল্ল্যাহ, অধ্যাপক নঈম শামীম খান, ফজর ইলাহী শাহিন, মো. সাইদুল আবরার লাভলু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এমএইচএম/আরএস/জেআইএম

আরও পড়ুন