জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয় এমন কিছু করবে না ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয় এমন কিছু করবে না ভারত

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারত এমন কিছু করবে না যাতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তৈরির প্রেক্ষাপটে সেখান থেকে শত শত মানুষ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। যদিও এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই উল্লেখ করে আসছে ঢাকা।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের দেশের জনগণের যে প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পারস্পারিক বন্ধুত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

তিনি বলেন, আজ আমরা বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতি দেওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে একত্রিত হয়েছি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উভয় দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় এই দু’দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও বোঝাপড়ায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ়তর জায়গায় রয়েছে। যার ফলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত এক দশকে আমাদের উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনালী অধ্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন এ সম্পর্ককে। আমাদের দু’দেশের সরকারপ্রধানের অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নিঃসন্দেহে আরও অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। আমরা আশাবাদী যে আগামীতে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষের (২০২০) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীরও আসার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

এইউএ/এমএস

সর্বশেষ - জাতীয়

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়