দেশব্যাপী দুদকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানীসহ সারাদেশে ছয়টি অভিযান পরিচালনা করেছে। বুধবার দুদক অভিযোগ কেন্দ্র ১০৬ এ আসা অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের বিশেষ টিম সারাদেশে এ অভিযান পরিচালনা করে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার মানিকনগর বাস স্ট্যান্ড থেকে মানিকনগর মডেল স্কুল পর্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। দুদক অভিযোগ কেন্দ্র ১০৬ এ আসা এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক শারিকা ইসলাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কে টেন্ডার স্পেসিফিকেশন অনুসারে লেবেলিংসহ অন্যান্য কাজ নিম্নমানের হওয়ায় দুদক টিম রাস্তার বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে অনুমতির জন্য কমিশনের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবে দুদকের এই বিশেষ টিম। এসময় সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের উপ-সহকারী পরিচালক সৌরভ দাসের নেতৃত্বে শরীয়তপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসে এনফোর্সমেন্টের অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক টিম ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতা সেজে ওই পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় অফিসে দালালদের উপস্থিতি রয়েছে। এ সময় দুদক টিম বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, দালালদের সাথে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ রয়েছে। ঘুষ না পলে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্ট দিতে দেরি করছে। এ সময় কয়েকজন দালাল ছদ্মবেশে থাকা দুদক টিমকে জানায়, দ্রুত পাসপোর্ট প্রদানের প্যাকেজ মূল্য হচ্ছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এর কমে এ অফিসে সেবা পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার।
দুদক টিম আরও জানতে পারে, এই ঘুষচক্রে পাসপোর্ট অফিসের রেকর্ড কিপার সুমন রায় এবং ডেলিভারি সেকশনে কর্মরত প্রণব কুমার দাস জড়িত আছে। পরে সেবাগ্রহীতা সেজে তাদের নিকট উপস্থিত হলে ওই দুই কর্মচারী দুদক টিমের নিকট ঘুষ দাবি করে। পরবর্তীতে দফতর প্রধান উপ-সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত বদলি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার বিষয়টি দুদক টিমকে অবহিত করেন। এছাড়া এনফোর্সমেন্ট টিম ইব্রাহিম, আশরাফ এবং সবুজ নামে তিনজন দালালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এছাড়া অফিস সময়ে অনুপস্থিত থেকে দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি সড়ক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ধান ক্রয় বাবদ কৃষকদের নিকট থেকে ঘুষ দাবি, আউটসোর্সিং স্টাফদের বিল প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয় বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম-১ হতে আরও চারটি অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক এনর্ফোসমেন্ট ইউনিটে আগত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশনকে অবহিত করতে মহাপরিচালক-ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সিআইডি; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড; জেলা প্রশাসক- মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, লালমনিরহাট, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, সিভিল সার্জন- দিনাজপুর ও জেলা শিক্ষা অফিসার- ঢাকা বরাবর পত্র প্রেরণ করেছে দুদক এনর্ফোসমেন্ট ইউনিট।
এমইউ/এমএফ/জেআইএম
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ কোটা জালিয়াতি: পিএসসির ১৪ সদস্যসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
- ২ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ছিলেন যারা
- ৩ নির্বাচন ঘিরে মাদকের বাজার রমরমা, ৩২ জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’
- ৪ গেণ্ডারিয়ায় জবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে আটক এক
- ৫ ঢামেকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসাসেবা বন্ধ