EN
  1. Home/
  2. জাতীয়

জন্ম থেকে মৃত্যু, ইতিহাস-সংগ্রামে ‘সংসদে বঙ্গবন্ধু’

সিরাজুজ্জামান | প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ইতিহাসের সঙ্গে ‘বসবাসের’ সুযোগ করে দিয়েছে জাতীয় সংসদ। সংসদ ভবনের একটি প্যাভিলিয়নে বঙ্গবন্ধুর জন্মভিটা থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর, যৌবনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সময় নিয়ে তৈরি আলোছায়ার চিত্রপট দেখতে দেখতে একটা সময় মনে হবে, যেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই বসবাস করছেন। জাতির পিতার জন্মভিটা টুঙ্গিপাড়া থেকে হাঁটতে হাঁটতে এ চিত্রপট আপনাকে নিয়ে যাবে স্বাধীনতার সুবর্ণ সময়ে। চোখের সামনে ভেসে উঠবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এক মহানায়কের মহাত্যাগের ইতিহাস। এখানে ঠাঁই পেয়েছে অবিসংবাদিত এই নেতার কারা জীবনের দুঃসহ স্মৃতি।

সংসদ ভবনের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মানিক মিয়া এভিনিউ ঘেঁষে ‘প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু’ নামে একটি প্যাভিলিয়নে গেলেই পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ‘বসবাসের’ এ সুযোগ। ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্যাভিলিয়নটি সর্বসাধারণে জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও সংসদের বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে এটি তৈরি করা হয়। চলবে ডিসেম্বরজুড়ে। প্রয়োজনে আরও সময় বাড়ানো হবে। এ প্রদর্শনী দেখতে সেখানে যাচ্ছেন অনেক দর্শনার্থী। তুলছেন ছবি। কেউ কেউ আবার ভিডিও করছেন।

jagonews24

এ বিষয়ে সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে রয়েছে রাজনীতির মহান কবির সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানতে সবাইকে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের আহ্বান জানাই। কারণ একটি রাষ্ট্রের জন্ম, সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বঙ্গবন্ধু যা কিছু করেছেন তা তুলে ধরা হয়েছে সেখানে।’

প্যাভিলিয়নটিতে ঢুকতেই শোনা যাচ্ছে সেই বজ্রকণ্ঠ। বিশাল আকারের হোম থিয়েটারে বাজছে ৭ মার্চের সেই ভাষণ।

jagonews24

চট্টগ্রাম থেকে আসা মো. হেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার একটা পরীক্ষা শেষ করে এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন দেখে ঢুকলাম। এখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনের সব কার্যকলাপ তুলে ধরা হয়েছে। ওনার যাবতীয় পাওয়া, দেশের জন্য সংগ্রামের সবগুলো বিষয়ই এখানে রাখা হয়েছে। আমার খুবই ভালো লাগছে। বঙ্গবন্ধুর এসব দেখে আমরা যেন আরও উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি এটাই প্রত্যাশা।’

প্যাভিলিয়নে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি ডামি (চলমান নয় এমন) ঘড়ি। ঘড়িতে বেজে রয়েছে ৮টা। ঘড়ির কাছেই লাল রঙের বোর্ডে সাদা অক্ষরে লেখা, ‘১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, রাত ৮টা। টুঙ্গিপাড়ার সম্ভ্রান্ত শেখ বংশে নতুন মুখের আগমন এবং বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। কালের পরিক্রমায় বিশ্বের ইতিহাসে ও বাঙালি জাতির অন্তরে এই মহেন্দ্রক্ষণ চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।’ সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষ ও পরিবারের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পাশাপাশি বেশকিছু ছবিও রয়েছে। এভাবেই সেখানে স্থান পেয়েছে বাংলার এ মহানায়কের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

jagonews24

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর ও তার পূর্বপুরুষের বসতবাড়ি দেখা হয়নি দেশের অনেক মানুষের। কিন্তু সেই প্যাভিলিয়নটিতে এর চিত্র দেখার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর কবরের বিশাল থ্রিডি ছবিও। বসতভিটার আশপাশে শোভা পাচ্ছে একটি প্রতীকী পালকির ছবি। সবগুলো ছবির পাশেই রয়েছে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। বঙ্গবন্ধু যে কিশোর বয়সেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন উল্লেখ রয়েছে সেটিও।

এগুলোর উপরে একটু বড় অক্ষরে লেখা ‘দুরন্ত শৈশব’। এরপর সবচেয়ে বড় অক্ষরে লেখা, ‘দীপ্ত তারুণ্য’। এই অংশে প্রদর্শিত হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তারুণ্যের সব ছবি এবং ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। বাকের গভ. হোস্টেলের নামফলকের একটি ছবি যেমন আছে একইভাবে দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর প্রথম দিল্লি ভ্রমণ, শৈশবে বিয়ে হলেও প্রথম ফুলশয্যার দিনক্ষণ, শেখ হাসিনার জন্ম এবং ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির কথাও।

jagonews24

‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন’ শিরোনাম অংশে রয়েছে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের নানা ছবি ও ছোট ছোট বর্ণনা। রয়েছে ১৯৫২ সালে স্থাপিত প্রথম শহীদ মিনারের ছবিও। এরই পাশে রয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের এক সময়ের প্রধান বাহন নৌকায় বঙ্গবন্ধুর ছবি, সঙ্গে আছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এর পরের অংশের শিরোনাম- ‘অবিসংবাদিত নেতৃত্বের পথে’। এর পাশের অংশ ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ ছয় দফা।

সেখানে রয়েছে প্রতীকী একটি কারাগারও। বঙ্গবন্ধুর ৪ হাজার ৬৮২ দিনের জেল জীবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। প্রদর্শনীতে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে পাকিস্তানের গণপরিষদ, স্বাধীন দেশে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদে বঙ্গবন্ধুর কাজগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

jagonews24

রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও সংগ্রামের দুর্লভ কিছু ছবি। এর মধ্যে লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদেশ সফরের ছবিও রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা বইও স্থান পেয়েছে সেখানে। প্যাভিলিয়নের মধ্যে বড় পর্দায় দেখানো ও বাজানো হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দেয়া বিভিন্ন ভাষণ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিটি ঘটনা যেমন উঠে এসেছে, একইভাবে উঠে এসেছে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জাতির জনকের ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবিও ফুটে উঠেছে নিদারুণভাবে।

jagonews24

প্যাভিলিয়নের ভেতরে রয়েছে কাঠ দিয়ে শিল্পীর বানানো বড় আকৃতির বঙ্গবন্ধুর সেই চশমা ও পাইপ। রয়েছে একটি মুজিব কোটও।

পরিদর্শনে আসা লালবাগের অধিবাসী মো. আল-আমীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকেই জানে না সংসদ এলাকায় এমন একটি প্রদর্শনী হচ্ছে। পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। আবার দেখলাম, সবার জন্য উন্মুক্ত। এটি দেখে খুবই ভালো লাগছে।’

এইচএস/এফআর/জেআইএম