ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বিষাক্ত মদপানে মারা গেছেন সেই তিন কর্মকর্তা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিষাক্ত মদপানে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার তিন কর্মকর্তা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে ওই কর্মকর্তাদের মৃত্যুর প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পরে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরাও মদপানের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মামলাসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. আফছারুল আমীন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এবং বেগম রুমানা আলী অংশ নেন।

কমিটিকে ওই রিসোর্ট ছাড়াও বগুড়ায় মদপানে মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবেদন দেয়া হয়।

বৈঠকে গাজীপুরের রিসোর্টের ঘটনার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা থেকে ৪৩ জন কর্মকর্তার একটি দল শ্রীপুর থানার সারা রিসোর্টে বেড়াতে আসেন। তারা সবাই এশিয়াটিক মার্কেটিং কোম্পালি লিমিটেডের আওতাধীন ফোরথট পিআরে কাজ করেন। ৩০ জানুয়ারি ঢাকা ফেরার পথে ওই দলের অন্তত ১৬ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে তারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। তার মধ্যে ওইদিন রাত ১০টায় কাইছার আহম্মেদ নামে এক কর্তকর্তা বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান।

পরদিন ৩১ জানুয়ারি সকাল ৮টায় শিহাব জহির এবং ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় এ কে এম শরীফ জামান ভূঁইয়া মারা যান। মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় মৃত্যু ব্যক্তিরা সারা রিসোর্টে অবস্থানকালে বিষাক্ত মদপান করেন। ওই ঘটনায় অসুস্থ অন্য ব্যক্তিরা সুস্থ হওয়ার পর মদ পানের বিষয়টি স্বীকার করেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় ৩০৪ (ক) ধারায় একটি মামলা করা হয়। মদ সরবরাহ করার জন্য মো. জাহিদ মৃধা নামে একজনকে ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদ পুলিশের কাছে প্রথম পর্যায়ে ছয় বোতল ও পরে আরও বোতল মদ সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন বলে জানানো হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশের ১৯ হাজার ২৭ জন সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৮৬৩ জন, মারা গেছেন ৮৫ জন এবং চিকিৎসাধীন ৭৯ জন।

বৈঠকে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তকাজ পরিচালনার জন্য গঠিত তদন্ত সংস্থা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

এতে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৮টি মামলায় ৩২৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি মামলায় ৯৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৭০ জনের বিরুদ্ধে প্রাণ দণ্ডাদেশ, ২৫ জনের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ এবং একজনের ২০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ছয়জনের প্রাণ দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে ৩৬টি মামলায় ২২৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। বিভিন্ন কোর্ট, থানা ও জনগণের কাছ থেকে সারাদেশে তিন হাজার ৮৩৯ জনের বিরুদ্ধে ৬৯৪টি মামলা/অভিযোগ অনুসন্ধান/তদন্তের অপেক্ষায় আছে। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী ঘটনার অভিযোগ তদন্ত করে বিচার শেষে সব মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা তদন্ত সংস্থার দক্ষতার পরিচায়ক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে আগ্নেয়াস্ত্র বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের অগ্রাধিকার প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে পত্র দেয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

এছাড়া পাবনা জেলা কারাগারকে শহরের বাইরে স্থানান্তর করা যায় কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুপারিশ করে কমিটি।

এইচএস/ইএ/জিকেএস