‘চাকরিটা খুব দরকার’
সকাল সাড়ে ৭টা। রাজধানীর নিউমার্কেটের নিকটবর্তী বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) বীরোত্তম হাবিবুর রহমান গেটের বাইরে তরুণদের দীর্ঘ সারি। লাইনের পেছনের দিকে থাকা তরুণরা বার বার সময় দেখছেন।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এসব তরুণ এসেছেন বিজিবির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে।
তাদেরই একজন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার আনোয়ার হোসেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সম্প্রতি বিজিবি বিভিন্ন বেসামরিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। তিনি অফিস সহায়ক পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। এসএমএস-এর মাধ্যমে তাকে এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় লিখিত পরীক্ষার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়। সে অনুযায়ী গতকালই (বুধবার) তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে রাজধানীতে এসে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন।
সেখান থেকে কাকডাকা ভোরে রওনা হয়ে বিজিবি গেটে লাইনে দাঁড়িয়েছেন আনোয়ার।
কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘চাকরিটা খুব দরকার। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মহামারির কারণে আয়-রোজগার কমে গেছে।’

কেবল আনোয়ারই নন। তার মতো লাইনে দাঁড়ানো অনেকের মুখেই একই কথা শোনা গেল।
কেউ আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিভ্রান্ত হয়ে অন্য গেটে ছুটে যাচ্ছেন। তাদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের নির্দিষ্ট গেটে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অন্য এক আবেদনকারীর দেখাদেখি তিনিও এখানে চলে আসেন। এখন তাকে ৫ নম্বর গেটে যেতে বলা হয়েছে, তাই চলে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিজিবিতে অসামরিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৫০ জনেরও বেশি জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়।
মহাপরিচালকের পক্ষে উপ-মহাপরিচালক (রেকর্ড উইং) স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন পদে- ইমাম (তিনজন), মুয়াজ্জিন (একজন), অফিস সহায়ক (২১ জন), মিডওয়াইফ (তিনজন), সহকারী ও বিএন ড্রাইভার (পাঁচজন), গ্রিজার (চারজন), সুকানি (১৮ জন), কার্পেন্টার (চারজন), টেইলার (তিনজন), লিফট অপারেটর (একজন), অফিস সহায়ক, এমএলএসএস (আটজন), প্লাম্বার (তিনজন), বুটমেকার (চারজন), মালী (১০ জন), বাবুর্চি (১১০ জন), পরিচ্ছন্নতা কর্মী (পুরুষ ১০৩ ও নারী আটজন), মেস-ওয়েটার ১২ জন এবং আয়া (দুজন) নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
কয়েক দিন ধরে এসব পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা চলছে। এরপর ভাইবা (মৌখিক)। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এমইউ/এসএস/জিকেএস