৭ মার্চে টাকা নয়, দেশপ্রেমে রাজি হয় ‘কল-রেডী’ মাইক সার্ভিস
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে শুধু টাকার জন্য সাড়া দেয়নি ‘কল-রেডী’ মাইক সার্ভিস। দেশের টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাড়া দিয়েছিল ‘কল-রেডী’। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাবেশের ভয়ে পাকিস্তানি সামরিক সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) সৈন্য মোতায়েন করেছিল। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের হুমকির মুখে রাতের অন্ধকারে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে মাইকের ব্যবস্থা করে ‘কল-রেডী’ বলে জানান কল-রেডীর প্রতিষ্ঠাতা হরিপদ ঘোষের ছেলে সাগর ঘোষ।
কল-রেডীর বর্তমান পরিচালক সাগর ঘোষ বলেন, ৭ মার্চের তিনদিন আগে বঙ্গবন্ধু তার ধানমন্ডির বাসায় আমার বাবা হরিপদ ঘোষ ও জ্যাঠা দয়াল ঘোষকে ডেকে সমাবেশে মাইকের ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুতে জীবন বিপন্নের ভয় ও এতো বড় সমাবেশে মাইক ভাড়ার খরচ বেশি হওয়ার কারণে অনেকে তাদের মানা করেন। কিন্তু স্বাধীনতার ডাকে রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে মাঠে মাইক লাগান বাবারা। মাইক লাগিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন তারা। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে যান্ত্রিক ত্রুটি যেন না হয় সেজন্য অতিরিক্ত তিনটি মাইক্রোফোন, কিছু হ্যান্ডমাইক ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগসহ নিজেরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণের সাক্ষী হতে পেরে কল-রেডী গর্ববোধ করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের সেই স্ট্যান্ড, মাইক্রোফোন সবই আছে। কিন্তু কল-রেডীর কোনো স্বীকৃতি মেলেনি। সরকার এগুলো যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও কল-রেডীর ইতিহাস সংরক্ষিত হবে।

জানা যায়, ১৯৪৮ সালের দিকে দয়াল ঘোষ ও হরিপদ ঘোষ নামে দুই ভাই পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে আরজু লাইট হাউজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে নাম দেয় কল-রেডী। অর্থাৎ কল করলেই রেডি। এরপর একে একে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১-এ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সমাবেশে মাইক সার্ভিস হিসেবে ব্যবহার করা হয় কল-রেডী। ৭ মার্চে কল-রেডীর যে মাইক্রোফোনে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেই মাইক্রোফোন আর কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে এসেও কল-রেডীর মাইক সার্ভিসের মাধ্যমে জনগণের সামনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
এছাড়া কল-রেডীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, ইন্দিরা গান্ধী, প্রণব মুখার্জি, অটল বিহারি বাজপেয়ী, ইয়াসির আরাফাত, নেলসন ম্যান্ডেলা, বিল ক্লিনটনসহ দেশ ও বিদেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
রায়হান আহমেদ/এআরএ/জেআইএম
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ নির্ধারিত সময়ে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া শেষ করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়
- ২ পর্যবেক্ষক না পাঠালেও ভোটের খোঁজ-খবর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র
- ৩ সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টার হাতে
- ৪ সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও গোপন তথ্য প্রচারে জেল-জরিমানা
- ৫ শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কমছে, প্রয়োজন রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন