ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধা আইউব আহমদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন

জাগো নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০৫ জুন ২০২১

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা আইউব আহমদ প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। গত ২ জুন স্কুলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

উদ্যোক্তা আজিজ আহমদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বেসরকারি এ বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এখানে একটি শিক্ষা কমপ্লেক্স গড়ে তুলতে চান তিনি।

ভিত্তি স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন হাইলধর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বশির আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এখানে একটা স্কুল হওয়া খুব দরকার ছিল। এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের দূরে গিয়ে স্কুল করতে হয়। এবার তাদের কষ্ট কমবে।’ এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া আজিজ আহমদ বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি উদ্যোক্তা। তার নিজের এবং পরিবারের অনুদানে স্কুলটির যাত্রা শুরু হচ্ছে। আজিজ আহমদের বাবার নাম অনুসারে স্কুলটির নামকরণ করা হবে ‘মুক্তিযোদ্ধা আইউব আহমদ প্রাথমিক বিদ্যালয়’।

স্কুলের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাবেক মুখ্যসচিব মো. আবদুল করিম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মেজর জেনারেল এ টি এম আবদুল ওয়াহাব, সাবেক শিক্ষাসচিব ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান ও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী।

স্কুলের উদ্যোক্তা আজিজ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সব বক্তৃতায় শিক্ষার অগ্রসরতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে বলেন। তার এ আহ্বান সবসময় আমাকে আলোড়িত করে। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে যে ভাগ্যটুকু গড়তে পেরেছি, তার সকলকিছুর মূলেই রয়েছে নিজের দেশ এবং এই গ্রাম। এখান থেকেই শিক্ষার প্রথম ধাপ শুরু।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। তবে এখন দেশকে কিছু দেয়ার সময় হয়েছে। আর সে কারেণেই দেশে আমার কোনো উদ্যোগই অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে নয়। আর এবার স্কুলটি আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেদের পৈতৃক জমির ওপর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি- একটি শিক্ষিত জাতি গড়তে ভূমিকা রাখতে পারবে।

আজিজ আহমদ বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তবে স্বাধীনতার পরপরই অল্পবয়সে তার মৃত্যু হয়। দেশের শিক্ষার প্রসারে বাবা যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, অকাল প্রয়াণে তা সম্ভব হয়নি। তাই আমাদের সব ভাইবোন, পরিবারের অন্য সদস্য ও মুরুব্বিদের মত এখানে বাবার নামে একটি স্কুল হোক। সবার প্রত্যাশা পূরণে আমাদের স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হলো।

এদিকে, স্কুল তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মাইজপাড়া তথা হাইলধরের মানুষেরা। ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘পূর্ব হাইলধরের মাইজপাড়ায় যে স্কুলটি হতে চলেছে, তা গ্রামের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।’

সেলিম উদ্দিন আনসারি বলছেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও গণমানুষের একটি স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে আজ।’ এ কে শাহজাহান বলেন, ‘এখানে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা বহুল প্রত্যাশিত ও আকাঙ্ক্ষিত।’

মনজুর আল হক এই প্রত্যাশা পূরণে সঙ্গে থাকার ও সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আর আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ অনেকরই মত, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যত প্রজন্ম কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আজিজ আহমদের বড়ভাই এস এম সাইফুর রহমান জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস এই মাইজপাড়ায় একসময় তার দাদা-পরদাদাদের উদ্যোগে মক্তব পরিচালিত হতো। এবার পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানে একটি স্কুল করার উদ্যোগ নিতে পারায় তারা গর্বিত।

পরিবারের আরেক সদস্য সৈয়দ মোক্তার আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার জন্য অবদান রাখার ক্ষেত্রে তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। এই স্কুল তাতে নতুন পালক যুক্ত করবে।’

আজিজ আহমদ বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে শুরু হলেও এখানে ভবিষ্যতে একটি শিক্ষা কমপ্লেক্স গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার।’

জানা গেছে, গত ২৮ মে আজিজ আহমদের মায়ের মৃত্যু হয়। মায়ের কুলখানি সম্পন্ন হয় গত বুধবার (২ জুন) । ওই দিনই তারা স্কুলটির ভিত্তিস্থাপন করে নির্মাণকাজ শুরু করেন। আজিজ আহমদের মা হোসনে আরা বেগমেরও এলাকায় সুনাম ছিল।

এএএইচ/জেআইএম