মসজিদ নির্মাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অভিযান
ফেনীর দাগনভূঞার সিন্দুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মসজিদ নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারের সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম।
মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদের নেতৃত্বে একটি অভিযান চালানো হয়। তারা সরেজমিনে মসজিদ ও রাস্তা পরিদর্শন করে চেয়ারম্যানের সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধান শেষে দুদক জানায়, মসজিদটি বর্তমানে নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। রাস্তার কিছু অংশের কাজে বিচ্যুতি রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিগত তিন বছরের বরাদ্দের নথি চাইলে তিনি আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গ্রামীণ রাস্তা হওয়ায় এর কিছু অংশ দেবে গেছে। এছাড়াও ওই চেয়ারম্যান দুদক টিমকে দ্রুত সব বিচ্যুতি মেরামতের আশ্বাস দেন।

দুদক জানায়, অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।
এছাড়াও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে এদিন দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সাতটি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে।
দু’দকের এ দুটি অভিযোগ সম্পর্কে দাগনভূঁইয়া উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরনবি জাগোনিউজকে বলেন, ‘টিআর প্রকল্প থেকে মসজিদের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। অথচ, মসজিদের জন্য এরই মধ্যে আমরা ২০ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছি। এখনও কাজ চলমান। তাহলে কিভাবে আমি এখান থেকে টাকা আত্মসাৎ করলাম?’
‘এছাড়া এলজিআরডির একটি প্রকল্প থেকে রাস্তা মেরামতের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা ওই রাস্তা দেখে গেছেন। গ্রামের রাস্তা। পাশে পুকুর রয়েছে। যে কারণে কোনো কোনো জায়গায় কিছু অংশ দেবে গেছে। যার ফলে রাস্তার প্রশস্ততা কম দেখা যায়। কিন্তু প্রকল্পে প্রস্তাবিত দৈর্ঘের চেয়েও আমি অনেক বেশি কাজ করিয়েছি। এছাড়া এলজিআরডি সরাসরি এসব প্রজেক্ট দেখভাল করে, অডিট করে। কিছুদিন আগেও অডিট করে গেছে। সুতরাং, এসব প্রজেক্টে কোনোভাবেই টাকা আত্মসাৎ করার প্রশ্নই আসে না।’
তাহলে কেন দুদকের কাছে অভিযোগ গেলো? এ প্রসঙ্গে সিন্দুরপুর ইউনিয়নের এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘সামনেই নির্বাচন। আমি জনগনের সমর্থন নিয়ে আবারও নির্বাচনে প্রার্থী হবো। কিন্তু আমার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে দুদকের হটলাইনে মিথ্যা অভিযোগ জানিয়েছে আমারই কোনো প্রতিপক্ষ। এ কারণেই মূলতঃ দুদক এই অভিযান চালিয়েছে। তবুও দুদক আমার কাছে যে সব নথিপত্র এবং হিসাব চেয়েছে, আমি যথাসময়ে তা তাদের কাছে পেশ করবো বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’
এসএম/এআরএ