শ্যামনগরের ‘বাঘ বিধবা’দের পাশে পুনাক
শতাধিক বাঘ বিধবার পাশে দাঁড়িয়েছে পুনাক
সুন্দরবনকে ঘিরেই সাতক্ষীরার শ্যামনগরের অধিকাংশ মানুষের জীবন। তারা জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেছে নেন সুন্দরবনকে। সুন্দরবন থেকে কখনো মধু সংগ্রহ, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ ও মাছ ধরার কাজ করে জীবন চালান। জীবিকার সন্ধানে সুন্দরবনে কাজ করতে গিয়ে অনেকে পড়েন বাঘের মুখেও। বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান। পেছনে পড়ে থাকে তাদের হতভাগ্য পরিবার-পরিজন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো বিধবাদের সাধারণত ‘বাঘ বিধবা’ বলে অভিহিত করা হয়। এমন শতাধিক বাঘ বিধবার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।
রোববার (৯ জানুয়ারি) সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুশীলনে পুনাকের পক্ষ থেকে বাঘ বিধবাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৩০ জন ধাত্রীর মাঝে ধাত্রী কিট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।
বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে পুনাক সভানেত্রী বলেন, আপনারা অনেকে স্বামী হারিয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন সন্তান। আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।

তিনি ধাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যখন কাউকে প্রসব করাবেন তখন যেন নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আপনারা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে আমরা আপনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।
পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেন, পুনাক একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। পুনাকের কাজ আমরা এতদিন পুলিশ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। কোভিড আমাদের শিখিয়েছে মানুষকে ভালোবাসতে হয় কীভাবে। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি।
পরে তিনি মঞ্চ থেকে উঠে এসে বাঘ বিধবাদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন।

এর আগে জীশান মীর্জা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রিভারভিউ ঘাটে বৃক্ষ রোপণ করেন এবং দাতিনাখালীতে সুপেয় পানির গভীর নলকূপ উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করায় পুনাক সভানেত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
টিটি/ইএ/জেআইএম