‘জাটকা নিধনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা’
জাটকা বিধনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী। তিনি অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘আইন লঙ্ঘনের এখতিয়ার কাউকে দেওয়া হবে না। মাঝেমধ্যে কিছু দুর্বৃত্ত গরিব মৎস্যজীবীদের জাটকা নিধনে সম্পৃক্ত করে। জাটকা নিধনের নেপথ্যে থাকা অবৈধ জাল তৈরি বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বরফ কল বন্ধ রাখতে হবে, যাতে দুষ্টু লোকরা জাটকা ধরে সংরক্ষণ করতে না পারে। বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রাখা হবে।
শ ম রেজাউল করিম করেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষা শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব নয়, নৈতিক কর্তব্যও বটে। এ সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের ৮০ শতাংশ ইলিশ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখতে না পারলে শীর্ষস্থান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই জাটকা সংরক্ষণে সম্মিলিত সহযোগিতা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমলে আমরা ব্যর্থ হতে চাই না। কোনো প্রলোভন বা দুষ্টু লোকের প্ররোচনায় কেউ যেন ভুল পথে না যায়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাটকা নিধন বন্ধ করতে না পারলে একসময় ইলিশ আর থাকবে না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বলতে হবে এ আকৃতির, এ রঙের, এ স্বাদের একটা মাছ ছিল, যে মাছের নাম ইলিশ। আমরা নিশ্চয়ই সেটা হতে দিতে পারি না। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য কেউ যেন নির্ধারিত আকারের চেয়ে ছোট ইলিশ না ধরে ও বিপণন না করে। আমাদের লক্ষ্য মৎস্যজীবীরাই ইলিশ মাছ ধরুক, মানুষ মাছ খাওয়ার সুযোগ পাক। কিন্তু সেটা যেন ইলিশ মাছ পরিপক্ক অবস্থায় আসার পর হয়।’
আমাদের দীর্ঘদিনের ভাতে-মাছে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এ ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আমাদের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী এবং মৎস্য খাতে যারা বিভিন্নভাবে কাজ করেন তাদের সম্মিলিত চেষ্টা এ ক্ষেত্রে অনিবার্য। শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে জাটকা রক্ষায় সম্পৃক্ত থাকবেন। আমাদের প্রত্যাশা জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করবেন, মৎস্য আহরণে সম্পৃক্তরা সহায়তা করবেন, যারা মৎস্য বিপণনে জড়িত তারাও সহায়তা করবেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ও বাংলাদেশ নৌপুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক। মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীলু রায় বক্তব্য দেন।
এ সময় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. হেমায়েত হুসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, মো. তৌফিকুল আরিফ ও এস এম ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান গণি তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ শিকদারসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, নৌপুলিশ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্য, মৎস্যজীবী ও জেলে প্রতিনিধি, মৎস্যজীবী লীগের নেতা এবং স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদীতে বর্ণাঢ্য নৌর্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
আইএইচআর/এমএএইচ/জিকেএস