অবৈধ বসবাসকারীদের পানি-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
মহাসড়ক অবরোধ-গাড়ি ভাঙচুর, ৩ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ বসতিতে পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছিল স্থানীয়রা। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় অবরোধকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় স্থানীয়রা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।
বায়েজিদ থানার ওসি ফেরদৌস জাহান বলেন, জঙ্গল সলিম পুর ও আলী নগর এলাকার অবৈধ বসবাসকারীরা বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছিল। বিকেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় সড়ক অবরোধকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
জানা যায়, সলিমপুর ও আলী নগর এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বেশ কয়েকটি গ্রুপ। পুলিশ ও র্যাব বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করলেও তারা জামিন নিয়ে এসে পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। মোশারফ ও ইয়াসিন বাহিনী নামে দুটি বড় সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে ওই এলাকায়।

বর্তমানে দুই বাহিনী প্রধান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। কারাগারে থেকেও তারা জঙ্গল সলিমপুর ও আলী নগর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।
প্রশাসনের দাবি, বিগত সময়ে প্রশাসনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতো সন্ত্রাসীরা। ওই স্থানে বাইরের লোকজন প্রবেশ করতে পারতো না। তারা সরকারি খাস পাহাড় কেটে প্লট বানিয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করতো। সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২০-২২ টাকা করে বিক্রি করে আসছিল ইয়াসিন ও মোশারফ বাহিনী।
অন্যদিকে, সম্প্রতি ওই এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার একর সরকারি খাস ভূমিতে সরকার বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়। অবৈধ দখলদারদের স্থান ত্যাগ করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রকৃতি গৃহহীন ও ভূমিহীন পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথা বলা হয়। এর মধ্যেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়। এরই মধ্যে রাতের আঁধারে রাস্তা কেটে প্রশাসনের লোকজনের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এরপর প্রশাসন ওই এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
ইকবাল হোসেন/আরএডি