ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮ বছর উপলক্ষে নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:০৬ এএম, ২৪ আগস্ট ২০২২

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের শনাক্তে শক্তিশালী কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে বিশিষ্টজনেরা।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এ দাবি তুলেন তারা।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক এলাহী, সাবেক আইজিপি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল, ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ৪৭ বছর আগে জাতির পিতাকে যারা যে সব কারণে হত্যা করেছিল তারাই নেপথ্যে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বার বার হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে ও এখনো করছে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যাসহ গোটা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করা।

‘১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারে মাঠ পর্যায়ের ঘাতকদের শাস্তি হলেও যে রাজনীতি ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশে সংঘটিত হয়েছে তার বিচার হয়নি। যারা পর্দার আড়ালে থেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যার উপর বার বার হামলা করেছে তাদের মূলহোতাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সরকারের কাছে দাবি একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন করে ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের প্রকৃত চেহারা ও তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কমিশন গঠনের জন্য নির্মূল কমিটির দাবি সমর্থন করে বলেন, ২১ আগস্টের কুশীলব কারা ছিলেন তা অবশ্যই খুঁজে বের করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। আমরা এরই মধ্যে কাজ করছি এ বিষয়ে। কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি। খুব শিগগির এ বিষয়ে আমাদের কাজের একটা আশাব্যঞ্জক সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। আমি আমাদের করণীয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ সবার কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত চাইছি।

মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। ঘটনায় আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। নিরাপত্তার জন্য আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসে গিয়েছিলাম। সেসময় পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে। জানতে পারি হামলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন। আমি ১৯৭১ এ বাংলাদেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখেছি। আমি দেখেছি ভারতে আশ্রয়শিবিরের বাংলাদেশি সব ধর্মের মানুষ কিভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। বাংলাদেশের অভ্যুদয় হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এদেশের শাসন পরিচালনা করেছিলেন অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে।

ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, আমরা রাষ্ট্র, রাজনৈতিক ও সংগঠন, জঙ্গিবাদ এই মোদ্দা বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও রাষ্ট্রযন্ত্র- এই তিনটি বিষয়ের উপরই ভিত্তি করে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যাসহ শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার জন্যই ২১ আগস্ট হামলা করেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। যে রাজনীতি ২১ আগস্টের ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রাক্তন আইজিপি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার বলেন, দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু ও তার দলের নেতাদের উপর যারা হামলা করেছে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারা চেয়েছে যাতে পাকিস্তানে আবার ফিরে যায় বাংলাদেশ। ১৫ আগস্টের ঘটনার স্বাক্ষী আমি।

ইষ্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক এলাহী বলেন, পুলিশ দাবি করছে হলি আর্টিজানের পর আর কোনো বড় ঘটনা হয়নি। আমি ভিন্ন মত পোষণ করি। দলীয় মদদে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের স্বপ্নগুলোকে একের পর এক ধূলিসাৎ হতে দেখে নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছে। এরপর আমরা দেখলাম ২১ শে আগস্টের বোমা হামলা। শুধু ২১ শে আগস্টে নয়, অসংখ্যবার বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, যে মানসিকতা ১৯৭৫ এর পটপরিবর্তনের চারা গজিয়েছিল তা আজ বিষবৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন-মৌলবাদ, ধর্মীয় স্পর্শকতারতা, অসহিষ্ণুতা এবং ধর্মকে রাজনীতিকরণ। শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থায় ধর্মের প্রভাব প্রতিফলিত। আজ পর্যন্ত মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে না পারায় বর্তমানে দেশের এ অবস্থা। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধরে রাখতে হলে আইনের ভূমিকা, গণতন্ত্রের চর্চা, বহুসংস্কৃতির সমাজ ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড বোমা হামলার উপর নির্মিত শাহরিয়ার কবিরের প্রামাণ্যচিত্র ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’র সংক্ষিপ্ত ভাষ্য প্রদর্শিত হয়।

আরএসএম/জেএস/এএসএম