হজ-ওমরা মেলা
শেষ দিনে উপচেপড়া ভিড়, ওমরা প্যাকেজে আগ্রহ বেশি
হজ ও ওমরা মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরা মেলা শেষ হয়েছে। শনিবার (১৯ নভেম্বর) মেলার শেষ দিনে পবিত্র হজ ও ওমরা পালনে আগ্রহীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। নানা প্যাকেজ ও অফার দেখে অনেকে বুকিংও দিয়েছেন।
মেলায় দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্যাকেজ ও সু্যোগ-সুবিধার বিষয়ে জানান এজেন্সির কর্মকর্তারা। তারা খেজুর, কফি, বিস্কুট খাইয়ে দর্শনার্থীদের আপ্যায়নও করেন।
স্টলে থাকা বিভিন্ন এজেন্সির কর্মকর্তারা জানান, এবারের মেলায় ওমরার প্রতি আগ্রহ বেশি। তবে ওমরার প্যাকেজের খরচ দ্বিগুণের বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
এজেন্সিগুলো বলছে, প্লেন ভাড়া ও হোটেল খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্যাকেজের খরচ বেড়েছে। এক লাখ ৪০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় মিলছে সাধারণ ওমরার প্যাকেজ।
জিননুরাইন ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমাদের রেসপন্স বেশ ভালো ছিল। ওমরার প্যাকেজ বেশি নিয়েছেন গ্রাহকরা। অনেকেই এসে জানতে চেয়েছেন, আগামীতে তারা হজে যেতে পারবেন কি না? আমরা তাদের বলছি, এখন রেজিস্ট্রেশন করলে হয়তো তারাও যেতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় হজে যেতে পারতেন। গত বছর সেটা পাঁচ লাখের বেশি হয়ে গেছে। হজে যেতে আগ্রহীরা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন, তারা যেতে পারবেন কি না। তবে আমরা আশা করছি, এখন যারা রেজিস্ট্রেশন করবেন, তারা ২০২৩ সালে যেতে পারবেন। তা না হলে ২০২৪ সালে যেতে পারবেন।’
রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে হজ ও ওমরাহ মেলায় খোঁজ-খবর নিতে এসেছেন মনির ও নাহার দম্পতি। এজেন্সিগুলোর বিভিন্ন স্টলে ঘুরে তারা তথ্য নিচ্ছেন।
২০২৫ সালে হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন আরিফ ও শাকিলা দম্পতি। তারা স্টল ঘুরে একই ছাদের নিচে তথ্য জানার পাশাপাশি সেরে নিচ্ছেন প্রাক-নিবন্ধনের কাজটিও।
প্রতি বছর গড়ে এক থেকে দেড় লাখ বাংলাদেশি হজ করতে সৌদি আরবে যেতে পারেন। আর প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো হজ ও ওমরা মেলা হওয়ায় এজেন্সির সঙ্গে আগ্রহীদের মেলবন্ধনের সৃষ্টি হয়েছে। দালাল ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারণে এখানে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত এ মেলায় হজ সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেলার উদ্বোধন করেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এতে প্রায় ১৫০টি স্টল এবং প্যাভিলিয়ন ছিল।
হাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী জাগো নিউজকে বলেন, পছন্দের এজেন্সির মাধ্যমে হজ ও ওমরা করার সু্যোগ সৃষ্টি হয়েছে মেলার মাধ্যমে। অনেক দর্শনার্থী এসেছেন। হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনা, বিধি-বিধান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। ভবিষ্যতে জেলা, উপজেলাপর্যায়ে হাবের উদ্যোগে এ মেলা করা হবে।
সাবিরুল জান্নাত এয়ার ট্রাভেলস স্টলের রিপ্রেজেনটেটিভ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ওমরার প্যাকেজ এক লাখ ৬১ হাজার টাকা। মেলায় কেউ অগ্রিম বুকিং দিলে ছয় হাজার টাকা ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।’
বাংলাদেশ এয়ার ট্রাভেলস মেলা উপলক্ষে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। হোলি মক্কা মদিনা ট্রাভেল সার্ভিস জনপ্রতি হজ ও ওমরা বুকিংয়ে এ ছাড় দিচ্ছে। মেলায় বুকিং দেওয়াদের মধ্যে তিনজনকে দেওয়া হবে উপহার। এরমধ্যে প্রথম বিজয়ী ওমরা পালনের জন্য প্লেন ভাড়া পাবেন।
পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের ১০ জনের গ্রুপে একজনকে বিনামূল্যে ওমরা করার সুযোগ দিয়েছে নিট ট্রাভেলস। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল গাফফার বলেন, ‘খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। ১০ জনের বড় পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের একজনকে বিনামূল্যে ওমরা করানো হবে। রেজিস্ট্রেশন করলে হজ প্যাকেজেও থাকবে মূল্যছাড়।’
এসএম/এএএইচ/জেআইএম