নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে ফিরতি মেসেজ আসতে বিলম্ব, যাত্রীদের ক্ষোভ
চট্টগ্রামে যাবেন ষাটোর্ধ্ব বেগম রোকেয়া। গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সকাল ৭টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন তিনি। সেখানে এসে জানতে পারেন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধনের নম্বর দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। নতুন এ নিয়ম আর প্রযুক্তিগত অদক্ষতার কারণে বিষয়টি তার কাছে কঠিনকাজে পরিণত হয়।
এর পর ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পরে এক সংবাদকর্মীর সাহায্যে নিবন্ধনের জন্য বার্তা পাঠান। তবে, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে ফিরতি মেসেজ আসার আগেই তিনি যে ট্রেনের জন্য নিবন্ধন করেছেন প্ল্যাটফর্ম ছাড়ছে সেই ট্রেন। বাইরে দাঁড়িয়ে সেটা দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না এ বৃদ্ধার।
আরও পড়ুন>> কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় জানেন না অনেক যাত্রী
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পরে কতবার কতভাবে রেলওয়ে নানা নিয়ম বানিয়েছে। এতে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা হতে দেখিনি। যে পদ্ধতিতে ভোগান্তি বাড়ে সেটা কেন করা হয় আমার বুঝে আসে না।’

বুধবার (১ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। শুধু বেগম রোকেয়া নয়, তার মতো অনেকেই এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
রাজধানীর রাজারবাগ থেকে সকাল সাতটায় স্টেশনে এসেছেন মাহমুদুল হাসান। আগামী ৫ মার্চে কুড়িগ্রামে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে এসেছেন তিনি। এখানে এসে জানতে পারেন এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সেই অনুযায়ী মোবাইল থেকে মেসেজও পাঠিয়েছেন তিনি। কিন্তু ফিরতি মেসেজের জন্য অপেক্ষা করছেন।
আরও পড়ুন>> বুধবার থেকে ৭ শর্তে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু
ইমতিয়াজ আহমেদ নামে এক যাত্রী বলেন, টিকিট সংগ্রহের জন্য আগে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল। কিন্তু আবার ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়েছিলাম। এরপর সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এরপর কাউন্টারে গেলেও কোনো সমাধান দিতে পারছেন না দায়িত্বরতরা। ফলে টিকিট সংগ্রহ না করেই দাঁড়িয়ে আছি। এত ভোগান্তি।
মোহাজ্জেল হোসেন নামে আরেক বৃদ্ধ যাবেন গফরগাঁও। তিনি অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের টিকিটর জন্য এসেছেন। অন্য একজন যাত্রীকে সহযোগিতায় নিবন্ধনের জন্য মেসেজ পাঠালেও ফিরতি বার্তার অপেক্ষায় আছেন। আধাঘণ্টা অপেক্ষার পরও তার সেই বার্তা আসেনি।

ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এত ঝামেলা হলে ট্রেনে যাতায়াত করবো কীভাবে। নতুন সিস্টেম করছে কিন্তু আমরা কেউ তা জানি না। কীভাবে কি করবো বুঝতে পারছি না।’
আজ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটিং, টিকিট চেকিং ব্যবস্থায় পস (পয়েন্ট অব সেলস) মেশিনের প্রবর্তন এবং অনলাইনের মাধ্যমে কেনা টিকিট অনলাইনেই ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রেখে সাত শর্তে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়েছে। নতুন এ নিয়ম সম্পর্কে না জানায় অনেকেই স্টেশনে এসে পড়েছেন ভোগান্তিতে। টিকিট সংগ্রহের আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় যাত্রীদের। কিন্তু মোবাইলে রেজিস্ট্রেশনের জন্য মেসেজ পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। এর ফলে অনেকে ট্রেন মিস করেছেন।
অন্যদিকে, সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও নিবন্ধন বুথে দায়িত্বরত কবীর উদ্দিন বলেন, যেসব যাত্রীরা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না সকাল থেকেই তাদের সহযোগিতা করছি। নতুন সিস্টেম তাই অনেকেই জানেন না, ভিড়ও করছেন। তবে, সবাই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করলে কাজটা দ্রুত শেষ করা যায়।
ফিরতি বার্তা আসতে দেড়ি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভোটার আইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ভুল দেওয়ায় ফিরতি বার্তা আসতে দেরি হচ্ছে বা আসছে না। তবে, সব কিছু ঠিক থাকলেও অন্তত দশ মিনিট সময় তো দিতেই হবে।’
আরএসএম/এমএএইচ/জেআইএম