ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

‘পর্যটনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২৩

স্বাধীনতার পর দেশে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সুস্থ বিকাশে গড়ে ওঠে ট্রাভেল এজেন্সি মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। এখন সারাদেশে সংগঠনটির প্রায় চার হাজার ৫০০ সদস্য রয়েছেন। এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হিসেবে আটাবকে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে একটি শক্তিশালী স্টেকহোল্ডার হয়ে উঠেছে এ সংগঠন। ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে দেশে দক্ষ কর্মী তৈরিতে আটাব প্রতিষ্ঠা করেছে ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। সম্প্রতি বিমান ভাড়াসহ হজ প্যাকেজের মূল্য কমাতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছে। আটাবের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের মানুষ।

ভবিষ্যতে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চায় সংগঠনটি। নিজেদের অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দেশের ভ্রমণ এবং পর্যটন শিল্পের নানা বিষয়ে সম্প্রতি জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আটাব মহাসচিব আব্দুস সালাম আরেফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুসা আহমেদ।

জাগো নিউজ: কেমন আছেন?

আব্দুস সালাম আরেফ: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

আরও পড়ুন: রমজানে বিমান-সৌদিয়ার বাড়তি ফ্লাইট চায় আটাব

জাগো নিউজ: আটাব প্রায় চার যুগ অতিক্রম করছে। দীর্ঘ এ যাত্রা কেমন ছিল?

আব্দুস সালাম আরেফ: আটাবের জন্ম ১৯৭৬ সালে। আমাদের আগের প্রজন্ম এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতার পর মূলত বাংলাদেশে ট্রাভেল ট্যুরিজম সেক্টরের কোনো সংগঠন ছিল না। সারাদেশে ৭০ থেকে ৮০টির মতো ট্রাভেল এজেন্সি ছিল। বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং তাদের কীভাবে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা যায় সেসব চিন্তা-চেতনা থেকেই আটাবের জন্ম। এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করে।

দেশে যত বৈধ ট্রাভেলস এজেন্সি আছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে যারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত সবাই আটাবের সদস্য। প্রায় সাড়ে চার হাজার এজেন্সি আমাদের সদস্য। এটা বিভিন্ন সময়ে কিছু কমে হয়তো, কেউ ব্যবসা বন্ধ করে দেয় আবার কিছু সময় নতুন নতুন উদ্যোক্তাও আসেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় চার হাজার সদস্য রয়েছেন।

এভিয়েশন এবং ট্যুরিজমে বাংলাদেশে যত দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স চলাচল করে তাদের টিকিট আমাদের সদস্যরা বিক্রি করেন। পাশাপাশি হোটেল প্যাকেজ, বিভিন্ন দেশে ট্যুর এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্যুরিজম খাত বা স্পটগুলোতে ভ্রমণ প্যাকেজ দেওয়ার কাজটিও আমাদের সদস্যরা করেন। দীর্ঘ চার যুগ ধরে আটাব সুনামের সঙ্গে এসব সেবা দিয়ে আসছে।

জাগো নিউজ: দেশে-বিদেশে পর্যটকদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

আব্দুস সালাম আরেফ: করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্বে যখন স্থবিরতা নেমেছিল, তখন আমাদের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বেড়েছে। বিশেষত কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, সিলেট ও সুন্দরবনের মতো স্পটগুলোতে তখন প্রচুর পর্যটকের যাতায়াত হয়েছে। এরমধ্যে দুটি ঈদের ছুটিসহ সরকারি বিভিন্ন ছুটিতে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। তবে আমাদের ট্যুরিস্টের ডিমান্ড অনুযায়ী সাপ্লাই এখনো কম। এখনো দেশে ফাইভ স্টার হোটেলের সংখ্যা খুবই সীমিত। সারাদেশে মাত্র ১৭-১৮টি ফাইভ স্টার মানের হোটেল আছে। কিন্তু বিশ্বের এমনও দেশ আছে যেখানে একটি শহরেই ৩০-৪০টি ফাইভ স্টার মানের হোটেল থাকে। সে দিক থেকে আমরা পিছিয়ে।

আরও পড়ুন: ২০২২ সালে ১ কোটি বিদেশি পর্যটক পেয়েছে থাইল্যান্ড

পর্যটন শিল্পের বিকাশে দেশে ফাইভ স্টার মানের হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দর অথবা সিটি সেন্টার টু হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কমিনিউকেশন আরও উন্নত করতে হবে। আমাদের আরও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে যেগুলো আছে সেগুলো আরও মর্ডানাইজ করতে হবে। পরিবহন ব্যবস্থারও সংস্কার প্রয়োজন। যানবাহনগুলো আরও আধুনিকায়ন করতে হবে।

এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভারতে প্রচুর পর্যটক আসেন। এক্ষেত্রে তাদের ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরদের একত্রিত হয়ে প্যাকেজ তৈরি করতে পারলে ভালো হয়। এতে কোনো পর্যটক নেপালে পাহাড় ভ্রমণ করতে এসে সেখান থেকে সাইড শিফট হয়ে তিনদিনের জন্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে চলে আসতে পারবেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এরকম সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি করা গেলে উভয় দেশই লাভবান হবে। ভবিষ্যতে হয়তো এ ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সেজন্য আমাদের মানসম্মত কিছু হোটেল-রিসোর্ট তৈরি করতে হবে। এখন যেগুলো আছে সেগুলো রেনভেশন করা হলে পর্যটন ব্যবসার সুযোগ বাড়বে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকরা ইদানীং বেড়ানোর জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। করোনার কারণে এই ধারা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন বাইরে যাওয়ার প্রবণতা একটু বেশি। বিশেষত বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ ট্যুরিস্ট যান পাশের দেশ ভারতে। অনেকে চিকিৎসার জন্যও যান। এখানে সড়কপথে যাওয়া যায়। আবার আকাশপথে ঢাকা-কলকাতা ১৪ হাজার টাকা ভাড়ায় আসা-যাওয়া করা যায়।

এর বাইরে দেশীয় পর্যটকদের একটি বড় অংশ দুবাই ভ্রমণ করেন। সেখানে ভিসাটা খুব সহজলভ্য। এক লাখ বা সোয়া লাখ টাকার মধ্যে চার-পাঁচদিনেই একটি প্যাকেজ পাওয়া যায়। এ প্যাকেজ আগে একটু কম ছিল। এখন ডলারের পরিমাণে টাকার মান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের খরচ কিছুটা বেড়েছে।

আরও পড়ুন: বিদেশি পর্যটক টানতে ব্যবসায়ীদের ১২ প্রস্তাব

বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায়ও প্রচুর পর্যটক যাতায়াত করেন। ইদানীং মালদ্বীপে পর্যটকদের যাওয়া-আসা বাড়ছে। এছাড়া সৌদি আরবে ওমরা পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রচুর ধর্মপ্রাণ মুসল্লি যাতায়াত করেন। তারা একদিকে ওমরা পালন করছেন, অন্যদিকে সৌদির সৌন্দর্যও উপভোগ করছেন। সৌদিতে এখন প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ বাংলাদেশি পর্যটকের যাতায়াত। তবে ওমরা প্যাকেজ যেটা দু-তিন মাস আগেও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় মিলতো ডলারের দাম বাড়ায় এখন সেখানে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মতো। রমজান মাসে খরচটা একটু বেশি থাকে। এয়ার টিকিটের দাম বেশি থাকে এবং হোটেল ভাড়াও বেশি লাগে। রমজানে এক লাখ ৮০ থেকে ২ লাখ টাকায় নরমাল প্যাকেজ পাওয়া যায়।

জাগো নিউজ: ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে দক্ষ কর্মী তৈরিতে কতটা ভূমিকা রাখছে?

আব্দুস সালাম আরেফ: ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেক্টরে যারা সরাসরি কাজ করেন, চাকরি করেন বা যারা নতুন করে এ খাতের ব্যবসায় আগ্রহী তাদের একটা ট্রেনিং দেওয়া হয়। এ সেক্টরকে উন্নত করতে ২০০৭ সালেই তৎকালীন কমিটি ট্রেনিং সেন্টার করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিল। প্রায় ১৬ বছর ধরে এটা চলছে। আমাদের এখান থেকে ৬-৭ হাজার স্টুডেন্ট যারা বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সি ও এয়ার লাইন্সে চাকরি করছেন। যারা এখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে বের হয়েছেন তারা কাজের মাধ্যমে এই সেক্টরকে আরও বিকশিত করছেন। কীভাবে টিকিট বুকিং করতে হয়, এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও ট্যুর গাইডিং করতে হয়, সেসব বিষয় আমরা এখান থেকে শেখাই। আমরা মনে করি, এই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধারা চলমান থাকবে। গত এক বছরে আমাদের এখানে প্রায় এক হাজারের মতো স্টুডেন্ট ভর্তি করিয়েছি। বর্তমানে ১২টি ব্যাচে ৩০০ এর মতো স্টুডেন্ট ট্রেনিং নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিদেশি পর্যটক বাড়াতে ই-ভিসা ও অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর দাবি

আমাদের ট্রেনিংয়ের খরচটা খুব কম। আগে ২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে কোর্সটা করা যেত। এখন ছয় মাসের ডিপ্লোমা কোর্স ৪০ হাজার টাকার মধ্যে করানো হচ্ছে। এছাড়া আমাদের দুই মাসের আরেকটি শর্ট কোর্স আছে, সেটি আমরা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে করিয়ে থাকি। একটা বিষয় হচ্ছে, যারা শিখতে আগ্রহী তাদের ট্রেনিং শেষে আমরা চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে থাকি। আমাদের এখানে ট্রেনিং করতে হলে কমপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পাস হতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি আরও বড় ডিগ্রি নিয়েও চাইলে এখানে ভর্তি হতে পারবেন।

জাগো নিউজ: বাংলাদেশে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের বিকাশে সরকারের একটি মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। তাদের সঙ্গে আটাব কীভাবে সমন্বয় করছে?

আব্দুস সালাম আরেফ: আটাবের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যটন বা পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিয়ে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে। এজেন্সির বিভিন্ন সমস্যা এবং তাদের ডেভেলপমেন্টের জন্য যে ধরনের কাজ করা দরকার আমরা তা করে তাদের সহযোগিতা করি।

জাগো নিউজ: গত ছয় মাস বা এক বছর আগের তুলনায় এখন সব এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম প্রায় দ্বিগুণ। পর্যটন খাতের ওপর এর কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আপনি মনে করেন।

আব্দুস সালাম আরেফ: টিকিটের দাম বাড়ায় পর্যটক যে খুব একটা কমেছে তা কিন্তু নয়। যার যেতে হবে সে তো যাবেই। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। এজন্য এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি দেখি, করোনার আগে বছরে গড়ে এক লাখ লোক ওমরায় যেতেন। এটা এখন আড়াই থেকে তিন লাখ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইন্স সৌদি আরবে হজ ও ওমরা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ এয়ারলাইন্স সব আসনে যাত্রী নিচ্ছে। খরচ বাড়লেও যাত্রী সংখ্যা কমেনি। বাড়তি খরচ দিয়েই মানুষ ওমরায় যাচ্ছেন। কারণ, বাংলাদেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই টিকিটের দাম বাড়লেও ভ্রমণ চ্যালেঞ্জিং হবে না। ভ্রমণপিপাসুরা সব সময় নতুন কিছু দেখতে চান। নতুন নতুন জায়গায় যেতে চান। ফলে এটা চলমান থাকবে।

আরও পড়ুন: বিদেশি পর্যটক আকৃষ্টে উদ্যোগ নেই পর্যটন করপোরেশনের

জাগো নিউজ: দেশে বিদেশি পর্যটক দিন দিন কমছে। এর কারণ কী?

আব্দুস সালাম আরেফ: আমাদের দেশে বিদেশি পর্যটক আসার ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে প্রথম শ্রেণির হোটেল ও রিসোর্টের অপ্রতুলতা। এখানে একজন পর্যটক এসে কী করবেন? হোয়াট ইজ দ্য প্ল্যান? অথচ আপনি দুবাই যান, সেখানে এক সপ্তাহ থাকার জন্য অনেকগুলো আইটেম পাবেন। আপনি ডলফিন শো দেখবেন, ফ্লাওয়ার গার্ডেন দেখবেন, ঝরনা বা বুর্জ আল খালিফা দেখবেন, সমুদ্রেও পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। ঢাকায় আসার পর একজন ট্যুরিস্ট যাবেন কোথায়? যানজটেই তো দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতেই তো তার তিন-চার ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে সমৃদ্ধ মিউজিয়াম রয়েছে। আমাদের দেশে মিউজিয়াম কথাটাই বোধহয় হারিয়ে গেছে। অথচ মিউজিয়াম একটা ভালো ট্যুরিস্ট প্লেস। এটা নিয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণাও নেই।

বিদেশি পর্যটকরা থাইল্যান্ড বা দুবাইতে অ্যালকোহল পাচ্ছেন, স্বাধীনভাবে শর্ট প্যান্ট পরে ঘুরছেন, এটা কিন্তু বাংলাদেশে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ এখনো এ বিষয়গুলো সহজভাবে নিতে পারেন না। এখানে আমাদের একটা সেন্স বা এডুকেশনাল গ্যাপ আছে।

দেশে বিদেশি ট্যুরিস্ট বাড়াতে হলে অ্যালকোহল ফ্রি জোন ট্যুরিস্টদের দিতে হবে। তারা যেন একান্ত নিজের মতো সময় কাটাতে পারেন সে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আমরা এখনো সেটা পারিনি। ট্যুরিস্টদের জন্য স্পেশালাইজড জোন করতে হবে। যেখানে শুধু বিদেশি পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন। যেখানে বাইরের কেউ তাদের দিকে সার্কাসের মতো তাকিয়ে থাকবে না। সেই ফ্রিডমটা তাদের দিতে হবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে হবে। নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রচার-প্রসারও জরুরি।

আমরা পর্যটন শিল্পের বিকাশে বড় শিল্পগ্রুপগুলোকে এ খাতে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করছি। পর্যটন খাতের বিকাশে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। মাত্র পাঁচ বছরের জন্য এ সুযোগ দেওয়া হলে ট্যুরিজম খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্বাস করি। তখন গোটা দেশের পর্যটন শিল্পের চেহারা পাল্টে যাবে। আমরা দুবাই কিংবা থাইল্যান্ডের ট্যুরিজম লেভেলে পৌঁছে যেতে পারবো। ফলে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পর্যটন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ৮৭ শতাংশ পর্যটক হয়রানির শিকার

জাগো নিউজ: পর্যটকদের সেবায় নানা ত্রুটি নিয়ে আটাবের কিছু সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এসব সমস্যা সমাধানে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নেন?

আব্দুস সালাম আরেফ: আসলে আমাদের দেশে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু এজেন্সি কমিটমেন্ট ফেল করে, এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সব ক্ষেত্রে সব খাতে আপনি এটা পাবেন। মূলত, মন্ত্রণালয় লাইসেন্স দেওয়ার সময় যাচাই-বাছাই করেই দেয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় খুব শক্ত অবস্থানে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা এবং লাইসেন্স বাতিলও করা হয়। আইনে শাস্তির বিধান আছে। যদি কোনো এজেন্সি পর্যটককে প্রাপ্য সেবা না দেয় সেক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা ও জেল- এ তিনটি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। আমরা আমাদের সদস্যদের কমিটমেন্ট ঠিক রাখার পরামর্শ দিই। পর্যটকদের উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বলি। এর বাইরে আটাব কোনো অভিযোগ পেলে কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি নজরে নেয়। তখন অভিযুক্ত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদি দেখি তিনি কমিটমেন্ট রাখেননি, তখন তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করি এবং আমরা অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিই।

জাগো নিউজ: সম্প্রতি হজে যাওয়ার প্লেন ভাড়াসহ হজ প্যাকেজের খরচ সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে আটাব। চিঠির কোনো সাড়া পেয়েছেন?

আব্দুস সালাম আরেফ: বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করে হজ পালন আসলেই খুব কঠিন। করোনার পরে দেশের জনগণের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং অনেকক্ষেত্রে ডাউন হয়েছে। যারা প্রাক-নিবন্ধনধারী তাদের পক্ষে এখন সাত লাখ টাকা দিয়ে হজে যাওয়া সম্ভব নয়। তার ওপরে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, গ্যাস-বিদ্যুতের খরচ বেড়েছে। প্রতিদিনের সাংসারিক চাহিদা মিটিয়ে এত টাকা দিয়ে একজন ব্যক্তির পক্ষে হজ পালন করা কঠিন।

আরও পড়ুন: যে কারণে পর্যটন-শিল্পে মালদ্বীপ বিশ্বে ‘নাম্বার ওয়ান’

এ অবস্থায় হজযাত্রীদের সুবিধার্থে প্যাকেজের টাকা একটু কমানো বা এক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় কি না- তা নিয়ে আমাদের সদস্যরা অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। গত বছরের তুলনায় এবার এক লাফে ৩০ শতাংশ ভাড়া বেড়েছে। একই সঙ্গে হজ প্যাকেজের দামও বেড়েছে। হজযাত্রীরা মনে করেন, বিমান ভাড়া একটু কমানো হলে তাদের জন্য অনেক উপকার হয়।

বর্তমানে হজ প্যাকেজের সাত লাখের সঙ্গে কেনাকাটাসহ একজন হজযাত্রীর প্রায় আট লাখ টাকা খরচ হবে। যদি স্বামী ও স্ত্রী একসঙ্গে হজে যান তাহলে খরচ হবে ১৬ লাখ টাকা। এ অবস্থায় তিল তিল করে জমানো অর্থে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা সাধারণ মানুষের পক্ষে হজ পালন করা খুব দুরূহ। সেক্ষেত্রে হজ গমনেচ্ছু অনেকের জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়।

জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আব্দুস সালাম আরেফ: আপনাকে ও জাগো নিউজ পরিবারকে ধন্যবাদ।

এমএমএ/এমকেআর/এএসএম