সব ছাপিয়ে বড় পরিচয় হলো, নারী মা
প্রতীকী ছবি
নারী দিবস নিয়ে বিশ্বব্যাপী রয়েছে নানান রকম মত, নানান রকম ভাবনা। নারীদের মধ্যেই রয়েছে মতের ভিন্নতা। দিবস নিয়ে কজন সফল নারীর ভাবনা পাঠকদের জন্য-
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গুলশহানা উর্মি বলেন, আমি ২৮তম বিসিএসের তথ্য ক্যাডারের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বেতারে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করি ২০১০ সালের শেষের দিকে। কর্মজীবনে আমি এরই মধ্যে ১ যুগ পার করেছি। শুরু থেকেই আমার কর্মপরিবেশ ভালো ছিল। তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি আমাকে হতে হয়নি। তবে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছি। নারীর সব পরিচয় ছাপিয়ে বড় পরিচয় হলো নারী মা। একজন চাকরিজীবী মা হিসেবে বাচ্চাকে সাহায্যকারীর কাছে রেখে দীর্ঘসময় কর্মস্থলে থাকা একটা বিশাল মনোকষ্টের ব্যাপার। তার উপর আমার নিজের বা স্বামীর পরিবারের কারও কোনো সাপোর্ট পাইনি। তাই কষ্টটা অনেক বেশি ছিল।
‘বিশেষ করে সিভিল সার্ভিস এর চাকরি করি বিধায় আমাকে দুটি দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ট্রেনিং এবং দুই ধাপের সার্ভিস রিলেটেড আইন বিধি পরীক্ষা দিতে হয়েছিল, যা একা দুই বাচ্চা সামলে সম্পন্ন করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। ১২ বছরে কমপক্ষে সাতবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, চাকরি ছেড়ে দেবো। এক্ষেত্রে একটা বিষয় না বললেই না- আমি আমার অফিস প্রধান থেকে শুরু করে সহকর্মীদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। অফিসের সহায়ক পরিবেশ ও নিজে কঠোর পরিশ্রম করতে পারি বলেই একা বাচ্চার দায়িত্ব পালন করেও সরকার প্রধানের অফিসে দীর্ঘ সাতবছর কাজ করতে পেরেছি।’
শ্যামলীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের একেক প্রান্তে নারী দিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য একেক রকম। বাংলাদেশে এখনকার নারীরা ঘরে-বাইরে সর্বত্র নিজের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় রাখছেন। এই যুগে সরকারের আমলে অনেক অনেক এগিয়েছে ক্ষমতায়ন। নারীরা ভালোভাবে কাজ করতে পারছে।
ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী আফরিন নুসরাত বলেন, ছেলে-মেয়েরা সমভাবে সব সেক্টরে কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছে এটা এখন গ্লোবাল ট্রুথ। তাই উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। তবে মানুষের কটু কথা বা একটু আড় চোখে তাকানো পীড়া দিয়েছে।
ঢাকা সিটি কলেজের প্রভাষক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী চৈতালী হালদার জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েদের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জীবন সব ক্ষেত্রে। যেকোনো পেশায় মেয়েরা নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আগায়, বা নানা স্যোশাল বুলিংয়ের শিকার হয়। প্রধান প্রতিবন্ধকতা সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গি। আমি নারী হিসেবে স্যোশাল ট্যাবুর শিকার হয়েছি বেশি। একজন ছেলে যখন রাজনীতি করে, একটা মেয়ের রাজনীতিকে অন্য চোখে দেখে।
উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জীবনে আমি পারিবারিক সাপোর্ট পেয়েছি। অন্যদের ক্ষেত্রে এমন নাও হতে পারে। সমাজে অন্য নারী যারা কাজ করে, তাদের পরিবার বা সমাজের সবাইকে সহযোগী হিসেবে না পেলে চলা কঠিন। আর আরেকটি বিষয় হচ্ছে, নারী নিজেকে নারী হিসেবে ট্রিট না করে মানুষ হিসেবে বা জেন্ডার বায়াস নয় মনে করে এগোতে হবে।
এসইউজে/এমএইচআর