স্মার্ট সিটিজেন হতে হলে স্মার্ট ইউজার হতে হবে: নওফেল
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র স্মার্ট সিটিজেন হতে হলে এনার্জির স্মার্ট ইউজার হতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তিনি বলেন, টেকসই এনার্জি ব্যবহার তখনই বাস্তব হবে যখন ছেলেমেয়েরা এর প্রপার ইউটিলাইজ করবে। যখন কেউ অপ্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রিসিটি ব্যবহার করবে না।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউট আয়োজিত সাসটেইনেবল এনার্জি বিষয়ক দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্নিভাল অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রয়োজন মাফিক এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করতে হবে। গ্রামের মসজিদগুলোতে দেখা যায় অপরিকল্পিতভাবে এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মসজিদে যারা নামাজ পড়ছেন তাদের একে অপরের থেকে নানা ধরনের অসুখ ছড়াতে পারে। এভাবে অতিরিক্ত ইলেক্ট্রিসিটি ব্যবহার করে আমরা কিন্তু আনসাসটেইনেবল ইউজার হয়ে যাচ্ছি। এসব থেকে আমাদের এই প্রজন্মকে সচেতন হতে হবে।
সপ্তাহব্যাপী এই অনুষ্ঠান শুরু হয় ৩ মার্চ। শেষ হয় বৃহস্পতিবার ৯ মার্চ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৪টি ক্যাটাগরিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ১২০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এরকম একটি উদ্যোগ নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, এনার্জি কতটুকু ব্যবহার করা পরিবেশের জন্য ভালো আর কতটুকু করা খারাপ তা ছোটকাল থেকে জানতে পারলে আমাদের জীবনযাত্রা অনেক উন্নত হবে। স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিক হতে হলে আমাদের এর স্মার্ট ইউজার হতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের টেম্পারেচারে জিন্সের মত মোটা কাপড় পরা কতটা যৌক্তিক তাও এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা চ্যালেঞ্জ করবে। সমাজটাকে চেঞ্জ করতে হবে। গতানুগতিক কোনো কিছুর বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার মাধ্যমেই সাসটেইনেবিলিটি অর্জন করা সম্ভব। যা আছে তাই যদি থাকে তাহলে কোনো সমাধান আসবে না। গদবাঁধা চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র রাজনীতির বিষয় নয়, সমাজ পরিবর্তনের বিষয় নয়, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যত বেশি চ্যালেঞ্জ আছে তত বেশি ইনোভেশন আছে। নতুন কিছুর সৃষ্টি আসে ভাঙার মাধ্যমে। আর তাই ভাঙার মানসিকতাও থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গতানুগতিক প্রথা ভাঙতে হবে। এজন্য আমরা কারিকুলামে পরিবর্তনের এনেছি। অ্যাকটিভিটি বেজড লার্নিং সিস্টেম এখানে থাকবে। এর সুবিধা অনেকেই পাননি, অনেকেই পাবেন। পড়াশোনাটা যেন অত্যাচার নির্যাতন না হয়, পড়াশোনাটা যেন আনন্দময় হয় এবং এর মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা নতুন কিছু শিখবে।
ঢাবির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকার সম্পাদক মোল্লা আমজাদ, বাংলাদেশ সোলার ও রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল আকতার প্রমুখ।
আল-সাদী ভূঁইয়া/এমকেআর/জিকেএস