ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন ১৩ মে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৩

অবশেষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, জেলা/মহানগর ও উপজেলা কমান্ডের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে কাউন্সিলের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তফসিল ঘোষণা করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচন হচ্ছে।

হেলাল মোর্শেদ খানের (বীরবিক্রম) নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ৮ জুন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ওই বছরের ১৯ জুলাই কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের কারণে নানা সমস্যার কথা জানিয়ে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এরপর ২০২১ সালের ১৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৯ মার্চ। খসড়া ভোটার তালিকার ওপর দাবি, আপত্তি ও সংশোধনী গ্রহণের শেষ তারিখ ২২ মার্চ। দাবি, আপত্তি ও সংশোধনী নিষ্পত্তির তারিখ ২৮ মার্চ এবং ২ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া ৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৯ এপ্রিল। ১১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রার্থিতা বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

এছাড়া ১৩ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি ও ১৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৭ এপ্রিল এবং ১৮ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘১৩ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চারটি ইউনিট রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কেন্দ্রীয় একটা ইউনিট আছে। এছাড়া জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে ইউনিট আছে। প্রতিটি ইউনিটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রিটার্নিং অফিসার ঠিক করেছি। তাদের আমরা সেভাবে ব্রিফ করবো। নির্বাচনটা হবে একদিনেই। উপজেলা, মহানগরে ভোটকেন্দ্র থাকবে।’

‘উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) রিটার্নিং কর্মকর্তা হবেন। জেলায় একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ফল ঘোষণা করবেন। মহানগরেও রিটার্নিং কর্মকর্তা হবেন একজন এডিসি। কেন্দ্রীয় কমান্ডের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।’

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি বীর মুক্তিযোদ্ধারা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে একটি সংসদ আমরা পাবো। যারা পরবর্তী তিন বছরের জন্য তাদের প্রত্যাশিত যে সেবা তারা দিতে চান বা দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচন করবেন সেই সেবা তারা দিতে পারবেন।’

সংসদের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর করা নিয়ে দীর্ঘদিন মামলার কারণে নির্বাচন বন্ধ ছিল। এখন কীসের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা করা হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা জেনেছি, এখন এমন কোনো মামলা নেই যে মামলা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’ এবার নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ তিন বছর হবে বলেও জানান মাহবুব হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাওয়া সমন্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা অনুযায়ী ভোটার তালিকা করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ পর্যন্ত আমরা ৯৭ হাজার ১১২ জনের ভোটার তালিকা পেয়েছি। চূড়ান্ত তালিকা হলে সংখ্যাটা কমবেশি হতে পারে।’

দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে কমিশনের কী ভূমিকা থাকবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নির্বাচনটা অবাধ ও নিরপেক্ষ আমরা করবো। এটি নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই। কারও যদি সন্দেহের কারণ থাকে, কোনো ব্যত্যয় হয়েছে। আমাদের নজরে আনলে আমরা হ্যান্ডেল করবো। আমরা চাইবো মুক্তিযোদ্ধাদের পছন্দের নেতৃত্বই যেন তাদের সংগঠন পরিচালনা করেন।’

এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেএইচ/বিএ/জিকেএস