জাতিসংঘে গৃহীত হলো শেখ হাসিনার কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্যোগ
জাতিসংঘে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক: দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ রেজুলেশন আকারে গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মে) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনস্বরূপ জাতিসংঘের ৭০টি সদস্য রাষ্ট্র এ রেজুলেশনে কো-স্পন্সর করে।
রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনে এ রেজুলেশনের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের এ রেজুলেশন অনুমোদনকে ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন>> বিএনপি প্রতিহিংসায় কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, রেজুলেশনের সফল বাস্তবায়ন কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জাতিসংঘ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এ রেজুলেশনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এটি সদস্য দেশসমূহে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক মডেল স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রবর্তন ও বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক এবং দাতাদের যথাযথ কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
দেশের সব নাগরিককে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু করেন, যা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুফল সরবরাহে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
আরও পড়ুন>> কমিউনিটি ক্লিনিক একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী
মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার এ পর্যন্ত সারাদেশে পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারত্বে ১৪ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অদম্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে রেজুলেশনটি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে নেগোশিয়েনস করেন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মো. মনোয়ার হোসেন।
মিশন গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ও এর ধারাবাহিকতায় এ রেজুলেশনটি চলতি বছরের শুরুর দিকে মিশন সদস্য রাষ্ট্রের বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিগত চারমাস নিবিড় আলোচনা ও নেগোশিয়েশনের পরে মঙ্গলবার প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
এসইউজে/এএএইচ/জিকেএস