বৃষ্টিতে ভিজেই রাজধানীর অলিগলিতে চলছে পশু কোরবানি
খুশির ঈদে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও (২৯ জুন) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে ঈদের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পশু কোরবানি দিতেও বিড়ম্বনায় পড়ছেন অনেকেই। এ কারণে বৃষ্টিতে ভিজেই রাজধানীর অলিগলিতে চলছে পশু কোরবানি।
বৃহস্পতিবার সকালে ঈদের নামাজ আদায় শেষে রাজধানীর অলিগলিতে বৃষ্টিতে ভিজেই পশু কোরবানি করেছেন সবাই। তবে, যাদের সুযোগ আছে তারা বাসার নিচের গ্যারেজে বা খালি জায়গায় পশু কোরবানি করেছেন। আর এজন্য পাড়া-মহল্লার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদরাসাছাত্রদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফুট বারেক মোল্লা রোড এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান। ঈদের নামাজ সেরে নিজ বাড়ির নিচে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। সেই অনুযায়ী স্থানীয় মাদরাসার ছাত্রদের মাধ্যমে তিনি পশু কোরবানি করেন। তবে, অনেকেই বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন। ঝুমবৃষ্টিতে মিরপুর পাইকপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১ নম্বরের অনেক অলিগলিতে হাঁটু পানি। পশু কোরবানি দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। বৃষ্টিতে ভিজেই রাজধানীর অলিগলিতে চলছে পশু কোরবানি।
মিরপুরের ৬০ ফুট হাসান আলীর রোডে বিপরীত পাশের গলিতে বৃষ্টিতে ভিজে পশু কোরবানি দিয়েছেন শেখ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকালে বৃষ্টি কম ছিল। তাই কোনোমতে পশু কোরবানি দিয়েছি। কোরবানির পশু থেকে চামড়া সরানোর সময় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজেই বাকি কাজ সম্পূর্ণ করতে হচ্ছে।’

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করছেন।
তবে, পশু কোরবানির জন্য এবার সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেয়নি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। নগরীর সৌন্দর্য্য রক্ষা ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে ২০১৫ সাল থেকে প্রতি ওয়ার্ডে কয়েকটি স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়ে ছিল সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি বিশেষ কিছু স্থানে থাকতো পশু কোরবানির সব ব্যবস্থা। নগরবাসী সেখানে পশু নিয়ে গেলে কোরবানি করে মাংস বুঝিয়ে দেওয়া হতো। এবার সেই বিশেষ স্থানও নেই। ফলে যেভাবে পারছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিজ নিজ বাসা বাড়ির নিচে কোরবানির পশু জবাই করছেন।
অতীতে বর্জ্য রাখার জন্য পলিব্যাগ সরবরাহ করা হলেও এবার সেই উদ্যোগও চোখে পড়েনি। এতে করে যত্রতত্র পশু কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাতের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালে ঈদুল আজহার সময় রাস্তায় পশু কোরবানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে পশু কোরবানির জন্য ডিএনসিসি এলাকায় ২০৮টি ও ডিএসসিসি এলাকায় ৩২৪টি স্থান নির্ধারণ করা হয়। স্থানগুলোও অনেকে শনাক্ত করতে পারেননি। ২০১৯ সাল থেকে ডিএসসিসি সম্পূর্ণ স্থান নির্ধারণ বাতিল করে দেয়। ডিএনসিসি কাজটি চালিয়ে যাচ্ছিল। তারাও নগরবাসীকে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করতে উৎসাহী করে তুলতে পারেনি। এ অবস্থায় স্থান নির্ধারণ করা থেকে এবার সম্পূর্ণ সরে এসেছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে, কোরবানির নির্দিষ্ট স্থান থাকলে এবার বৃষ্টির দুর্ভোগ থেকে অনেকে মুক্তি পেত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এমওএস/এমএএইচ/এএসএম
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ১
- ২ গণমাধ্যমের নিজস্ব ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট চালু করা খুবই জরুরি
- ৩ ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ই-টিকিটিং পদ্ধতির উদ্যোগ মালিক সমিতির
- ৪ লভ্যাংশ দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ, হোতা গ্রেফতার
- ৫ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের তালিকা চেয়েছে ইসি, পরিপত্র জারি