ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ডেঙ্গুরোধে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২৩

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সারাদেশে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ। একই সঙ্গে বিনামূল্যে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা দেওয়াসহ ৭ দফা দাবি তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এসব দাবি করেন পরিষদের নেতারা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি ডা. ফয়জুল হাকিম, পরিষদটির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

বক্তারা বলেন, প্রতিবছর দেশে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার ঘটে। এ বছর রাজধানীতে সবাই ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি ওয়ার্ড এলাকা ঝুঁকির বিপদসীমা অতিক্রম করেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে। প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শেষে লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি তা করেনি। দুই সিটির মশক নিধন বিভাগ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এডিস মশা নিধনের বিষয়ে তারা বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে দুই সিটি করপোরেশন ড্রেনে গাপ্পি মাছ, জলাশয়ে হাঁস ও ডোবায় ব্যাঙ ছেড়েছিল। মশা শনাক্তের জন্য এই দুই সিটির কোনো কীটতত্ত্ববিদ বা প্যারাসাইটোলজিস্ট নেই। খালি চোখে সিটি করপোরেশনের লার্ভা শনাক্তের পদ্ধতিটি যে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক তা তাদের কে বোঝাবে?

হাতুড়ে পদ্ধতি দিয়ে এডিস মশার বিরুদ্ধে ‘চিরুনি অভিযান’ চালনা করছে ঢাকার দুই সিটি। সংস্থাটি দাবি করে, মশার শ্রেণী বিন্যাস কিংবা লার্ভা পরীক্ষার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কোনো ল্যাব নেই। দেশে ২০২৩ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুরোগে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ১৪৩ জন।

মশা নিধনে দুই সিটির অবহেলা রয়েছে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের নাতারা বলেন, এবারে ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মশক নিধন করা দুই সিটির গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও সেই তৎপরতা তাদের ছিল না। নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেত। এডিস মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ যে কার্যকর হচ্ছে না তাও তাদের নজরে আসে না।

ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখেন। কত মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে নারী ও শিশুরা। আজ ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি করেছে জনমনে। এর জন্য দায়ী দুই সিটি করপোরেশন।

জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ডা. ফজল হাকিম বলেন, মশক নিধন কমিটি করা হয়নি। এর জবাব কে দেবে। তারা আসলে জবাবদিহি করতে চায় না। কারণ তারা নির্বাচিত নয়, তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করার দরকার নেই। জ

ডেঙ্গুরোধে পরিষদের ৭ দফা

১. এডিস মশার বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন ভূমিকার জন্য জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে, দোষীদের শান্তি দিতে হবে।

২. রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কীটতত্ত্ববিদদের নেতৃত্বে এডিস মশা নিধন অভিযান শুরু করতে হবে।

৩. রাজধানী হতে জেলা হাসপাতাল-উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র পর্যন্ত বিনামূল্যে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা দিতে হবে।

৪. সারা বছরব্যাপী এডিস মশা বিস্তারের ওপর নজরদারি করা, নিয়মিত জরিপ করা, লার্ভা যথাসময়ে ধ্বংস করা, সিটি করপোরেশন-পৌরসভায় কীটতত্ত্ববিদ নিয়োগ করা, ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।

৫. অবিলম্বে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করে জনগণকে রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা তৈরি থাকা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও শনাক্ত করা এবং ডেঙ্গুবিস্তার রোধে কার্যকর সাড়া দেওয়ার কাজ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনকে করতে হবে।

৬. স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করতে হবে।

৭. সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরএসএম/জেডএইচ/জিকেএস