যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি: র্যাব
স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি পলাতক স্বামী জীবন শেখকে (২৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) রাতে র্যাব-১০ এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। র্যাব জানায়, মারধরের এক পর্যায় জীবন শেখ স্ত্রী নাবিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর নাবিলার মরদেহ ঘরের মধ্যে ফেলে তিনি পালিয়ে যান।
বুধবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গ্রেফতার জীবন শেখের সঙ্গে নাবিলা খানের এক বছর ৬ মাস আগে বিয়ে হয়। জিহাদ নামে তাদের ৮ মাসের একটি ছেলে সন্তান আছে। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে জীবন শেখ ব্যবসা করার জন্য স্ত্রী নাবিলাকে তার পরিবারের থেকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। পরবর্তীতে নাবিলা বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জীবন শেখকে ব্যবসা করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেয়। এর কয়েকদিন পর জীবন আবারও নাবিলাকে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর নাবিলা তার পরিবারের কাছ থেকে আর কোনো টাকা আনতে পারবে না জানালে এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। যার ফলে জীবন শেখ ও নাবিলার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাধ হতো এবং জীবন নাবিলাকে মারধরও করতেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে গত ২৬ আগস্ট সকালে যৌতুকের টাকা নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। এ বিবাদ কেন্দ্র করে জীবন শেখ নাবিলাকে মারধর ও বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন। মারধর করার এক পর্যায় জীবন শেখ নাবিলার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডর পর নিহত নাবিলার খানের বাবা মো. টুটুল হোসেন খান বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ২৯ আগস্ট রাতে র্যাব-১০ এর আভিযানিক দল ঢাকার দোহার থানাধীন কার্তিকপুর এলাকায় অন্য একটি অভিযান পরিচালনা করে ফরিদপুরের সদরপুরে আলোচিত এক মানসিক প্রতিবন্ধী ধর্ষণ মামলার একমাত্র পলাতক আসামি সিদ্দিক খাকে (২০) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে গ্রেফতার আসামি এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
গত ২৪ আগস্ট ফরিদপুরের সদরপুর থানাধীন মধ্যের বাবুরচর এলাকায় বসবাসরত ১৩ বছরের মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশু তাদের বাড়ির পেছনে নসিমনে বসে খেলা করা কালে একই এলাকায় বসবাসরত সিদ্দিক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ইশারায় তার কাছে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর প্রতিবন্ধী শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিকটস্থ একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশু ঘটনাটি তার মাকে জানালে শিশুটির মা বাদী হয়ে ফরিদপুরের সদরপুর থানায় ধর্ষক সিদ্দিক খার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে আসামি সিদ্দিক ঢাকার দোহারসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন।
গ্রেফতার আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
টিটি/এমআইএইচএস
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ই-টিকিটিং পদ্ধতির উদ্যোগ মালিক সমিতির
- ২ লভ্যাংশ দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ, হোতা গ্রেফতার
- ৩ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের তালিকা চেয়েছে ইসি, পরিপত্র জারি
- ৪ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ধারণেই গণভোট: আলী রীয়াজ
- ৫ টেলিফোন আলাপের পর এবার জেদ্দায় বৈঠকে তৌহিদ হোসেন-ইসহাক দার