ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন

প্রতারণার উদ্দেশ্যে লিঙ্গ পরিবর্তন, কোটি টাকা আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:০১ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ছদ্মনামে ফেসবুক পেজ খুলে কুয়েতের ভিসা ও বিএমইটি কার্ড জালিয়াত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীসহ বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।

গ্রেফতাররা হলেন– শরিফুল ইসলাম (৪২), আবরার জাওয়ার তন্ময় ওরফে রেজাউল করিম রেজা ওরফে হৃদি মাহাজাবিন (২৬) ও আহিয়ান শিশির ওরফে কামরুজ্জামান শিশির (২৯)। তাদের মধ্যে আবরার জাওয়ার তন্ময় ও কামরুজ্জামান শিশির উভয়ই ট্রান্সজেন্ডার। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা লিঙ্গ পরিবর্তন করে। তবে ডিবির নিবিড় তদন্তে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির ডিবি কম্পাউন্ডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তার কাছ থেকে জানা যায়, আসামিদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪০টি পাসপোর্ট, ৯টি জাল ভিসা, জাল ভুয়া বিএমইটি কার্ডের ফটোকপিসহ মোবাইল ও সিম উদ্ধার করা হয়।

jagonews24

গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট গুলশান থানায় প্রতারণার একটি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা ও এজাহারনামীয় আসামি শরিফুল ইসলামকে শুক্রবার দিনগত রাত সোয়া ১টার দিকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী একই চক্রের সক্রিয় সদস্য ও এজাহারনামীয় আসামি আবরার জাওয়ার তন্ময়সহ আহিয়ান শিশির ওরফে কামরুজ্জামান শিশিরকে একই দিন রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ডিএমপির গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিবি বলছে, প্রতারক চক্রটি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে আল সাফার ইন্টারন্যাশনাল নামে গুলশান-১ এলাকায় একটি অফিস খোলে। ওই অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে ফেসবুকে বিভিন্ন ছদ্মনাম দিয়ে পেজ খুলে, কুয়েতে উচ্চ বেতনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিত। আর এ প্রলোভন দেখিয়েই তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। পরে তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। চক্রটি মূলত ছদ্মনাম ব্যবহার করে ও অন্যের এনআইডি দিয়ে মোবাইল সিম তুলে প্রতারণা করে আসছিল।

আরও জানা যায়, চক্রটি আরবিতে লেখা কুয়েতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঠিক ভিসা কপি সংগ্রহ করে। পরে একটি সঠিক ভিসা নম্বর ব্যবহার করে ফটোশপের মাধ্যমে বিদেশগামী ব্যক্তির নাম, পাসপোর্ট নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য যোগ করে কুয়েতের জাল ভিসা তৈরি করে। ওই জাল ভিসা, পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা বিভিন্ন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে তিন দিনের ট্রেনিং শেষ করে সার্টিফিকেট নিয়ে আসে।

পরে ওই জাল ভিসা, পাসপোর্ট ও ট্রেনিংয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা প্রবাসী কল্যাণ ও জনশক্তির প্রধান কার্যালয়সহ জেলার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে যান। কুয়েতের সরকারি ওয়েবসাইটে ভিসা নম্বর চেক করে অ্যাপলিকেশন স্ট্যাটাস অ্যাপ্রুভড থাকায় অফিসগুলো থেকে বিদেশগামী ব্যক্তিদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয় ও স্ট্যাটাস অব বায়ো-ফিঙ্গার এনরোলমেন্ট সাকসেস হওয়ার একটি কপি দেওয়া হয়।

এছাড়া প্রতারকরা একটি সঠিক বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স কার্ডের স্ক্যানকপিতে বিদেশগামী ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিখে রঙিন কপি প্রিন্ট করে বিএমইটি কার্ড কমপ্লিট হয়েছে বলে জানায়। এ তথ্য জানানোর পর তারা প্লেনের টিকিট দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে চুক্তি করা পুরো টাকা নিয়ে নেয়। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে চক্রটি অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ বলেন, গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেফতার শরিফুল ইসলামের নামে বিভিন্ন থানায় প্রতারণার চারটি ও আবরার জাওয়ার তন্ময় ওরফে রেজাউল করিম রেজা ওরফে হৃদি মাহাজাবিনের নামে একটি প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলা রয়েছে।

বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এজেন্সি সম্পর্কে ভালোলভাবে যাচাই-বাছাই না করে টাকা-পয়সা লেনদেন করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

টিটি/এসএএইচ