ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বিরোধীদলীয় এমপিদের অভিযোগ

জরিপের নামে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ভূমি অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের যেসব সেক্টরে দুর্নীতি হয়, তার মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় অন্যতম। এজন্য দায়ী ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। জরিপের নামে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। যেখানেই শুরু হয় জরিপ, সেখানকার মানুষ হয় গরিব।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সংসদে ‘ভূমি উন্নয়ন কর বিল ২০২৩’ পাস হয়েছে। এর আগে বিলের ওপর বিরোধীদলীয় সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠ ভোটে নিষ্পত্তি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স রদ করে নতুন এ আইন পাস করা হয়। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এসব সমালোচনার জবাবে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষকে এসব হয়রানির থেকে রেহাই দিতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইনে রাজস্ব আদায়ের কাজ শুরু হওয়ায় অনেক হয়রানি কমে আসছে। প্রতিদিন সরকার অনলাইনেই পাঁচ কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব পাচ্ছে, এটা বিশাল অগ্রগতি।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ভূমি জরিপ পুরোনো নিয়মে চলছে। জরিপ মানুষকে ফকির বানিয়ে দেয়। যেখানে জরিপ, সেখানেই মানুষ হচ্ছে গরিব। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নয়ছয় করে, কাগজ নাই, এটা নাই, ওইটা নাই বলে টাকা নেয়। যারা চালাক মানুষ তারা ভূমি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো কোনো প্রতিকার পান না। মানুষ জরিপে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ৯০ শতাংশ জরিপকারী দুর্নীতিবাজ বলেও দাবি করেন জাপার এই সংসদ সদস্য।

তহশিলদারদের সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে ইউএনও, এসিল্যান্ডদের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভূমিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জরিপকারীরা প্রবাসীদের পরিবারের ওপর জুলুম বেশি করে- এমন দাবি করে রুস্তম আলী ফরাজী জরিপে দুর্নীতি বন্ধে মন্ত্রীকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন>> বাংলা সনের পরিবর্তে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হবে অর্থবছরে

জাপার আরেক সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আইনের নাম ভূমি উন্নয়ন কর; কিন্তু এটা দিয়ে কার ভূমির উন্নয়ন করা হবে? যার ভূমি তার তো কোনো উন্নয়ন করা হচ্ছে না। এ কর দিয়ে ভূমির কী উন্নয়ন হচ্ছে এটা জানতে চান তিনি।

একেক জায়গায় একেক মৌজা রেট উল্লেখ করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মূল্য নির্ধারণ করেন সাব-রেজিস্টাররা। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো মৌজা রেট বসিয়ে দেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী যদি এসিল্যান্ড, সার্ভেয়ার, কানুনগো, সাব-রেজিস্টারদের সমন্বয়ে বসেন তাহলে দেখা যাবে সবচেয়ে কম রেটের মৌজায় বেশি দাম দিয়েছে, আর সবচেয়ে বেশি যেটা হওয়া উচিত সেখানে সরকারকে কর ফাঁকি দিচ্ছে। সবচেয়ে কম রেটে মানুষ কেনাবেচা করছে।

ভূমিবিরোধ আইন সব থেকে বেশি পার্বত্য অঞ্চলে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কোনো মৌজা রেট নেই। যদি কোনো জমি হুকুম দখল করা হয়, সরকার অধিগ্রহণ করে তাহলে ডিসি যেটা দাম ধরবেন সেটাই হবে। তিনি মনে করেন তিন পার্বত্য জেলায় মৌজা রেট দেওয়া উচিত, এতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, বাংলাদেশের যেসব সেক্টরে দুর্নীতি হয়, তার মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় অন্যতম। সিভিল মামলার কয়েক লাখই প্রত্যক্ষা বা পরোক্ষভাবে ভূমি সংক্রান্ত। ২০ থেকে ৩০ বছর মামলার পেছনে ব্যয় করেও মানুষ কোনো আদেশ বা নির্দেশনা পাচ্ছে না। অনেক মানুষ জীবদ্দশায় মামলার রায় দেখে যেতে পারে না। অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এজন্য দায়ী হচ্ছে ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ভূমির কোনো সেবা ঘুস দেওয়া ছাড়া পাওয়া যায় না। সাবরেজেস্ট্রি অফিসে প্রতি দিন কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হচ্ছে। ফলে মানুষ হয়রানি হচ্ছে, আর সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, জরিপকে স্বচ্ছ করতে হবে। জরিপের কিছু কিছু লোক মাস্টাররোলের, তারা বেতন পান না, দৈনিক ভাতা পান। এরা মানুষের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে একজনের জমি অন্যের নামে দিয়ে দেন।

তিনি বলেন, আমি দেখেছি আমার জমি, আমার নামে কাগজ, খাজনার রশিদ আছে কিন্তু যার দখল আছে তার নামে পরচা দিয়ে দিয়েছে। আমাকে বলছে ৩০ ধারা করেন, ৩২ ধারা করেন। বেশিরভাগ ঘটনাই এরকম। জরিপের কাগজ হলে সমস্যার সমাধান হবে।

আইএইচআর/ইএ/জিকেএস