অফিসিয়াল পাসপোর্টে সরকারি আদেশ বাধ্যতামূলক হচ্ছে
ভুয়া অনাপত্তিপত্র ব্যবহার করে অফিসিয়াল পাসপোর্ট তৈরি বন্ধ করতে সরকারি আদেশ (জিও) জমা দেয়ার নিয়ম করতে যাচ্ছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সরকারের এ সিদ্ধান্তটি পরিপত্র আকারে প্রকাশ পাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে মানবপাচারের ঘটনা ধরা পড়ার পর সরকারি বা ‘অফিশিয়াল পাসপোর্ট’ তৈরিতে এ কঠোর নিয়ম আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ভুয়া অনাপত্তিপত্র ব্যবহার করে বহু অফিসিয়াল পাসপোর্ট তৈরি হয়। একইভাবে ভুয়া জিও সংগ্রহ করে সেসব পাসপোর্টের মাধ্যমে অনেক সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে চলে যান। আর এসব কাজে একদল অসাধু লোককে সহযোগিতা করেন সরকারি কর্মকর্তারাই।
যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে সেসব দেশে মানবপাচার শুরু হয় এ প্রক্রিয়ায়। সেখান থেকে তাৎক্ষণিক ভিসা নিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা।
অফিসিয়াল পাসপোর্ট বানাতে শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন বা অনাপত্তিপত্র লাগতো। তবে বিদেশে যেতে প্রয়োজন হতো সরকারি আদেশ বা জিও। বিষয়টি জানাজানির হওয়ার পর এ বিষয়ে কঠোর হয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় অফিসিয়াল পাসপোর্ট তৈরিতে এবার সরকারি আদেশ থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দায় স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, এসব পরিস্থিতির জন্যে আমরাই দায়ী। একথা সত্যি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই অফিসিয়াল পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে এখন থেকে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে জিও প্রদর্শন করার নিয়ম করা হয়েছে। আগে যা শুধু বিদেশ যাওয়ার সময় লাগতো, এখন তা পাসপোর্ট করানোর সময় থেকেই লাগবে।
আরএম/এসকেডি/এনএফ/বিএ