ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. মতামত

ক্ষুধা কেবল নিয়তির ফল নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা

ড. রাধেশ্যাম সরকার | প্রকাশিত: ১১:৫৬ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ক্ষুধাকে সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা উৎপাদন ঘাটতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু ইতিহাস, রাষ্ট্র তত্ত্ব ও সমকালীন রাজনৈতিক অর্থনীতির আলোকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন একটি বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্ষুধা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারই দৃশ্যমান প্রতিফলন। খাদ্যের মোট প্রাপ্যতা এখানে একমাত্র নির্ধারক বিষয় নয়। তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষ সেই খাদ্যে কতটা প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, বণ্টনব্যবস্থা কতটা ন্যায়সংগত এবং রাষ্ট্র তার নীতিগত দায়িত্ব পালনে কতটা সক্ষম। যেখানে এই মৌলিক দায়িত্বগুলো অবহেলিত থাকে, সেখানেই ক্ষুধা ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী সামাজিক বাস্তবতায় রূপ নেয়। ফলে ক্ষুধাকে কেবল খাদ্যের অভাব হিসেবে দেখলে তার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যায়। বাস্তবে ক্ষুধা হলো সিদ্ধান্তহীনতা, জবাবদিহির ঘাটতি এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যর্থতার সমষ্টিগত প্রতিফলন, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর গভীর সংকটকে উন্মোচিত করে।

আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবন রক্ষা করা এবং ন্যূনতম কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই দায়িত্বের কেন্দ্রে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা, কারণ খাদ্য মানুষের অস্তিত্ব, স্বাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক ভিত্তি। অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি বড় অংশে ভিন্ন বাস্তবতা দৃশ্যমান। সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন সত্ত্বেও অপুষ্টি, ক্ষুধা ও খাদ্য অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এই স্পষ্ট বৈপরীত্য কেবল অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার ফল নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের শাসন কাঠামোর দুর্বলতা, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার অকার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণে গভীর সংকটকে নগ্নভাবে উন্মোচন করে। খাদ্যের প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও যখন মানুষ খাদ্যে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারই সুস্পষ্ট সাক্ষ্য হয়ে ওঠে।

ক্ষুধাকে যদি আমরা কেবল কৃষি উৎপাদনের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে বাস্তবতার খুব সীমিত একটি অংশই আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বহু আগেই সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে দুর্ভিক্ষ বা ব্যাপক ক্ষুধার মূল কারণ খাদ্যের সরাসরি ঘাটতি নয়। প্রকৃত সংকট সৃষ্টি হয় তখনই, যখন মানুষ তাদের খাদ্য অর্জনের অধিকার হারিয়ে ফেলে। কর্মসংস্থানের অভাব, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হওয়া, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজারে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের সংকট একসঙ্গে মিলিত হলে ক্ষুধা একটি সামাজিক বাস্তবতায় রূপ নেয়। এই কাঠামোগুলো টিকিয়ে রাখা ও সুরক্ষিত করার দায়িত্ব কোনো ব্যক্তির বা বাজারের নয়, বরং তা সরাসরি রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যখন এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন খাদ্য উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেও মানুষের জীবনে ক্ষুধা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্র যখন নীতিগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রশাসনিক সক্ষমতা হারায় এবং রাজনৈতিকভাবে তোষণনির্ভর কাঠামোর ভেতরে আবদ্ধ থাকে, তখন খাদ্য নীতিও অনিবার্যভাবে জনস্বার্থ থেকে বিচ্যুত হয়। নিওপেট্রিমনিয়াল রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে খাদ্য আর কেবল একটি সামাজিক সুরক্ষার উপাদান থাকে না; এটি রূপ নেয় রাজনৈতিক লেনদেনের কার্যকর উপকরণে। ভর্তুকি, ত্রাণ, খাদ্য সহায়তা কিংবা কৃষি প্রণোদনা তখন নাগরিক অধিকার হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতার আনুগত্য নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য বিকৃত হয় এবং প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে নীতির কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে যায়। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা একটি সার্বজনিক দায়িত্বের পরিবর্তে নির্বাচিত গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত সুবিধায় পরিণত হয়, যা সামাজিক বৈষম্যকে আরও গভীর করে তোলে।

বাংলাদেশসহ বহু উন্নয়নশীল দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নীতির ঘোষণাগত সাফল্যের আড়ালে এই ব্যর্থতার চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়, অন্যদিকে শিশু অপুষ্টি, গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিহীনতা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের স্থায়ী খাদ্য অনিশ্চয়তা একটি গভীর বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। এই দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে সংকটের মূল উৎপাদনে নয়, বরং শাসন কাঠামোর ভেতরে নিহিত। রাষ্ট্র যখন কৃষককে ন্যায্য মূল্য দিতে ব্যর্থ হয়, শ্রমিকের মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে নাগরিক অধিকারের পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে বণ্টন করে, তখন ক্ষুধা আর ব্যতিক্রম থাকে না। সে অবস্থায় ক্ষুধা একটি কাঠামোগত বাস্তবতায় রূপ নেয়, যা রাষ্ট্রের নীতিগত ব্যর্থতা ও শাসনগত দুর্বলতার সরাসরি ফলাফল হিসেবে সমাজে স্থায়ীভাবে প্রোথিত হয়ে যায়।

ক্ষুধা আরও গভীর আকার ধারণ করে যখন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গবেষণা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভ মুখ্য হয়ে ওঠে। নির্বাচনকেন্দ্রিক বাস্তবতায় খাদ্যনীতি অনেক সময় জনসমর্থন আদায়ের কৌশলে পরিণত হয়। দাম নিয়ন্ত্রণের সাময়িক উদ্যোগ, হঠাৎ আমদানি সিদ্ধান্ত কিংবা অপরিকল্পিত ভর্তুকি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও এসব পদক্ষেপ কাঠামোগত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়। বরং এগুলো বাজার ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য অনিশ্চয়তা ও ক্ষুধার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্বল আমলাতন্ত্র, জবাবদিহির ঘাটতি এবং দুর্নীতি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকেই ক্ষয় করতে থাকে। খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ও ত্রাণ বিতরণ এই প্রতিটি স্তরে সামান্য অদক্ষতাও সরাসরি মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির ওপর প্রভাব ফেলে। রাষ্ট্র যখন এই প্রশাসনিক কাঠামোকে দক্ষ, পেশাদার ও স্বচ্ছ করে তুলতে ব্যর্থ হয়, তখন ক্ষুধা আর কেবল একটি সাময়িক সমস্যা হিসেবে থাকে না। এটি ধীরে ধীরে একটি নীরব কিন্তু স্থায়ী সংকটে রূপ নেয়, যা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনকে দীর্ঘকাল ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রাখে।

ক্ষুধার সমস্যা সমাধান কেবল কৃষি উৎপাদন বাড়ানো বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। এর জন্য রাষ্ট্রকে নীতি, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং মানবিক ও অধিকারভিত্তিক মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্ষুধা যে কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোর দুর্বলতার একটি সূক্ষ্ম ও সরাসরি প্রতিফলন, তা আমাদের অনুধাবন করাতে হবে। মানুষের থালায় খাবার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের মূল সূচক, আর সেই দায়িত্ব ব্যর্থ হলে অন্যান্য উন্নয়নমূলক অর্জন তুচ্ছ হয়ে যায়।

ক্ষুধা কেবল মানবিক বা নৈতিক সমস্যা নয়; এটি গভীর রাজনৈতিক ও কাঠামোগত ব্যর্থতার প্রকাশ। যখন রাষ্ট্র নাগরিককে অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি না দেখে সহায়তা গ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করে, তখন খাদ্য নিরাপত্তা তার মৌলিক অধিকার হারায় এবং খাদ্য ন্যায়সঙ্গত না থেকে অনুগ্রহ বা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ফল হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি ক্ষুধাকে ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্যের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতায় রূপান্তরিত করে, যেখানে খাদ্য প্রাপ্তি রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। রাষ্ট্রের নীতি প্রণয়ন, সম্পদ বণ্টন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা যদি স্বচ্ছ ও অধিকারভিত্তিক না হয়, তবে ক্ষমতা সহজেই অপব্যবহারের শিকার হয় এবং কে কখন খাদ্য পাবে, কোন জনগোষ্ঠী বা অঞ্চল অগ্রাধিকার পাবে তা রাজনৈতিক আনুগত্য ও সুবিধাবাদের দ্বারা নির্ধারিত হয়। এর ফলে খাদ্য প্রাপ্তি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের উপকরণে পরিণত হয় এবং রাষ্ট্র নাগরিকের জীবনের ওপর অসম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এই ক্ষমতার অপব্যবহার খাদ্য নিরাপত্তাকে মানবিক প্রশ্ন থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক সংকটে রূপ দেয়, যেখানে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অধিকারভিত্তিক দাবি তুলতে না পেরে প্রশাসনিক সদিচ্ছা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়। ফলে নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক দাতা ও গ্রহীতার অসম সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং ক্ষুধা কেবল পুষ্টিহীনতার নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ও নাগরিক অধিকারের অবমূল্যায়নের গভীর রাজনৈতিক প্রতিফলন হয়ে দাঁড়ায়।

সমাধানের পথও তাই কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি বা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, যেখানে খাদ্য নীতি রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক ও অধিকারভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে। কৃষক, শ্রমিক এবং ভোক্তার স্বার্থকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো উপাদানগুলোই ক্ষুধা মোকাবিলার বাস্তব, স্থায়ী এবং কার্যকর পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করবে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ক্ষুধা কোনো আকস্মিক বা দৈবিক দুর্যোগ নয়; এটি রাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের সমষ্টিগত ফল। যে রাষ্ট্র নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তার মৌলিক সক্ষমতা ন্যায়সঙ্গত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাষ্ট্র উন্নয়নের যে সব আভিজাত্যপূর্ণ দাবি করা হয়, উচ্চ আকাশছোঁয়া অবকাঠামো, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা আন্তর্জাতিক খ্যাতি, এসব যতই থাকুক না কেন, খাদ্য নিরাপত্তার ব্যর্থতা সেই রাষ্ট্রকে মৌলিকভাবে অসম্পূর্ণ প্রমাণ করে। ক্ষুধা তাই কেবল মানবিক ও সামাজিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার, নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার গভীর মূল্যায়নের একটি সূচক। ক্ষুধা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য মাপা যায় কেবল অবকাঠামোগত সাফল্য বা অর্থনৈতিক সূচকের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের থালায় পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার আছে কি না, এই নীরব বাস্তবতার মধ্য দিয়েই। যেখানে খাদ্য পৌঁছায় না, সেখানে অন্য সব উন্নয়নমূলক অর্জন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র যদি ভ্রান্ত নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্বার্থের জন্য খাদ্য বণ্টন ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে ক্ষুধা সেই সরকারের কার্যকারিতা ও নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ক্ষুধার সমস্যা সমাধান কেবল কৃষি উৎপাদন বাড়ানো বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। এর জন্য রাষ্ট্রকে নীতি, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং মানবিক ও অধিকারভিত্তিক মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্ষুধা যে কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোর দুর্বলতার একটি সূক্ষ্ম ও সরাসরি প্রতিফলন, তা আমাদের অনুধাবন করাতে হবে। মানুষের থালায় খাবার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের মূল সূচক, আর সেই দায়িত্ব ব্যর্থ হলে অন্যান্য উন্নয়নমূলক অর্জন তুচ্ছ হয়ে যায়।

লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ, কলামিস্ট ও চেয়ারম্যান, ডিআরপি ফাউন্ডেশন। [email protected]

এইচআর/জেআইএম