জঙ্গিবাদের এক কালো অধ্যায়ের অবসান
মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জঙ্গিবাদের এক রক্তাক্ত কালো অধ্যায়ের।১৮ বছর আগে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের শুরু করেছিল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী-বাংলাদেশ (হুজি-বি)। এরপরের ছয় বছরে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ অন্তত ১৬টি ভয়ংকর বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালায় এই জঙ্গি সংগঠন। এসব হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন মুফতি আবদুল হান্নান। এসব হামলায় শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারান। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরো অনেকে।
২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মুফতি হান্নান। এরপর বিভিন্ন মামলায় টানা ১২০ দিন রিমান্ডে ছিলেন তিনি। তখনই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন হামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি জামায়াত জোট সরকার তা প্রকাশ করেনি। বরং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।
গত বুধবার তাঁর ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে দেশে জঙ্গিবাদের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সিলেটে ২০০৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজন নিহত হওয়ার মামলায় মুফতি হান্নান ও তাঁর দুই সহযোগীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। রাত ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মুফতি হান্নান ও হুজি-বির সদস্য শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আরেক হুজি সদস্য দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি একই সময়ে কার্যকর হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে।
দেশে যে জঙ্গিবাদ অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে তার সূচনা হয়েছিল ঘৃণ্য জঙ্গিবাদী হান্নানের তৎপরতার মধ্য দিয়ে। এক সময় তারা পৃষ্ঠপোষকতায়ও পেয়েছে নানা মহলের। কিন্তু বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদবিরোধী দৃঢ় অবস্থান নেয়ার কারণে হান্নানদের দিন শেষ হতে থাকে। তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের অবসান হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কোনো উপায় নেই। কেননা আরো বিস্তৃত পরিসরে ও ভিন্ন রূপে জঙ্গিবাদ সমাজকে ঘিরে ধরেছে। এর থেকে সহসা মুক্তি মিলতে চাই সর্বাত্মক প্রতিরোধ। কেবল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ প্রতিরোধে অংশ নিতে হবে। ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা ও অপ্রচারও বন্ধেও সচেতন থাকতে হবে। শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যবহার যাতে কেউ করতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি। আলেম-ওলামাদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সচেতন করাটাও জঙ্গি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দেশকে জঙ্গিমুক্ত করতে চাই জাতীয় ঐকমত্য।
এইচআর/এমএস