ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ছাত্র ইউনিয়ন

মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার বাতিল ইতিহাস মুছে দেওয়ার চক্রান্ত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৩৮ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেওয়ার চক্রান্তের অংশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের জাতীয় গৌরব ও জনযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব আক্রমণ বন্ধে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বরং প্রচ্ছন্ন সমর্থন যুগিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি’- এই অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রায় ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে ছাত্র ইউনিয়ন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

সংগঠনের নেতারা বলেন, তথাকথিত ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের কথা বলে এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্ববিরোধী অবস্থান জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মুখে ১৯৭১-কে জাতীয় গৌরব বললেও বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তন ও ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডে সরকার জড়িত বলে তারা অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে সরকারকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার যেকোনো চক্রান্ত তারা প্রতিহত করবে। সরকার যদি এ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে অপারগ হয়, তবে ঘোষণা দিয়ে গণচাঁদা উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।

২০২২ সালে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৮০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যচিত্র, ৮০ হাজার ইউটিউব কনটেন্ট এবং ১৬টি ডকুমেন্টারি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

এফএআর/একিউএফ