আল্লামা শফী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে হেফাজতের শফিপন্থী অনুসারীরা।
বুধবার (২ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আহমেদ শফীর অনুসারীরা। এছাড়াও আল্লামা শফীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কওমি মাদরাসার হিফজ ও মক্তব খুলে দেয়া এবং নিরপরাধ আলেমদের গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল আহমদ শফীর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে হেফাজতের সাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ দলের ৪৩ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। যদিও সেই প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাবুনগরী।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, যারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এবং যাদের নাম আসে নাই- কিন্তু আমরা জানি তারা উস্কানিদাতা এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তিনি বলেন, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে যেটা এসেছে সেটাই বাস্তব। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। তাদের আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
মূল বক্তব্যে বলা হয়, শফীর মৃত্যুর তিন দিন আগে থেকেই হাটহাজারীতে ভাঙচুর চালানো হয়। একশ বছরের বেশি বয়সী একজন আলেমের নাতির গলায় ভাঙা কাঁচ ধরে বলা হয়েছিল, ‘এই বুইড়া, স্বাক্ষর কর, না হয় তোর নাতিকে হত্যা করবো।’ এ কথা বলে জোর-জবরদস্তিমূলক স্বাক্ষর নিয়ে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। চাপাতি, রামদা, লাঠি, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত চরম ও উগ্রপন্থীদের দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। এসবের পরও কি বলতে হবে, শাহ আহমদ শফী (রহ.) এর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল? হাটহাজারী মাদরাসায় একটি চরমপন্থি উগ্রগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে সহজ-সরল ছাত্রদের উস্কানি দেয়া হয়েছিল, সবকিছুই তো দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার। তারপরও বলতে হবে আল্লামা শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল?
বক্তারা বলেন, আরও জঘন্যতম বিষয় হলো- হেফাজতের তথাকথিত বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী গত ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষকদেরকে সামনে বসিয়ে রেখে বলেছেন, হুজুরের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে বলেন, মাদরাসায় কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মিথ্যাচারপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছেন। এই বক্তব্য বড়ই বেদনাদায়ক। তার এমন বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে তার ক্যাডারদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আড়াল করার অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শফীপুত্র আনাছ মাদানী, মাওলানা মাঈনুদ্দিন রাহি, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা রুহুল আমিন খান উজানি প্রমুখ।
এসএম/এআরএ/এমএস/জেআইএম
সর্বশেষ - রাজনীতি
- ১ সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানার বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জামায়াতের
- ২ অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি
- ৩ খামেনির মৃত্যুতে খোলা শোক বইতে সই করলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল
- ৪ বিএনপির এমপিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৫ বাংলাদেশ ব্যাংক-দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম