উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গড়তে আল-আজহারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের দূত হিসেবে গড়ে উঠছে বাংলাদেশি একদল তরুণ প্রতিনিধি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আল-আজহারের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি।
ধর্মীয় উদারতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ‘দ্য অ্যাকর্ড ফর সলিডারিটি অ্যান্ড কোহিশন’ প্ল্যাটফর্মের আওতায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ইসলামের নামে উগ্রবাদ ও বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ মোকাবিলায় গত এক দশক ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ‘আল-আজহার অবজারভেটরি ফর কমব্যাটিং এক্সট্রিমিজম’। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই প্রতিনিধি দলটি বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো—আকিদা ও মাযহাবভিত্তিক ক্ষুদ্র মতপার্থক্য দূর করে ইসলামের প্রকৃত মধ্যপন্থা বা ‘ওয়াসাতীয়াহ’র আদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকিদা ও মতভেদ নির্বিশেষে ইসলামের সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, ইসলামের মূল উৎসসমূহের যথাযথ ব্যাখ্যা এবং সুসংগঠিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সচেতন করে তুলতে পারলেই উগ্রবাদ প্রতিরোধ সম্ভব।

কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আল-আজহার অবজারভেটরির প্রধান পরিচালক ড. রেহাম সালামা বলেন, আমরা এই উদ্যোগকে কেবল আজহারি শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। বরং এই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছেও আল-আজহারের মধ্যপন্থি চিন্তাধারা ও উগ্রবাদবিরোধী প্রশিক্ষণ পৌঁছে দিতে চাই।
আল-আজহার কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ ও সহযোগিতা বাংলাদেশি তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। একটি সহনশীল, স্থিতিশীল ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে ‘অ্যাকর্ড ফর সলিডারিটি অ্যান্ড কোহিশন’ প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
এমআরএম/এএসএম