ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

হজের ফরজ-ওয়াজিব কাজগুলো কী?

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২৭ জুন ২০২২

হজ। সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের ন্যয় নিষ্পাপ হওয়ার ইবাদত। যার বিনিময় শুধুই জান্নাত। এটি ইসলামের পঞ্চম রোকন। শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। ৩ ফরজ ও বেশ কিছু ওয়াজিব পালনে এ হজ সম্পন্ন করতে হয়। হজের ফরজ এবং ওয়াজিবগুলো কী?

হজের ফরজ

হজ পালনে তিনটি কাজ করা ফরজ। যা না করলে হজ হবে না। যার কোনো কাফফারা নেই। হজের তিন ফরজের কোনোটি বাদ পড়লে পরবর্তী বছর আবার হজ করতে হবে। হজের ফরজগুলো হলো-

১. ইহরাম বাঁধা

ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ হজের নিয়তে মিকাত (নির্দিষ্ট স্থান) থেকে সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় পরা।

২. আরাফাতের  ময়দানে সমবেত হওয়া

হাদিসের পরিভাষায় ‘আলহাজ্জু আরাফাহ’ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াই হজ। জিলহজের ৯ তারিখে সূর্যাস্তের আগের এক মুহূর্তের জন্য হলেও আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। সূর্যাস্তের পর আরাফার ময়দান ত্যাগ করা।

৩. তাওয়াফে জিয়ারাহ করা

১০ জিলহজ কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের পর থেকে ১২ই জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।

হজের ওয়াজিব

হজ পালনে অনেকগুলো কাজ করা ওয়াজিব। যার কোনোটি বাদ পড়লে দম বা কোরবানি দিতে হয়। হজের ওয়াজিবগুলো হলো-

১. মিকাতে ইহরাম বাঁধা

হজের উদ্দেশ্যে মিকাত (ইহরামের নির্দিষ্ট স্থান) ত্যাগ করার আগেই ইহরাম বাঁধা।

২. আরাফায় সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান

সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতেরর ময়দানে অবস্থান (ওকুফ) করা।

৩. কোরবানি করা

ক্বিরান বা তামাত্তু হজ আদায়কারীর জন্য কোরবানি আদায় করা এবং তা কংকর নিক্ষেপ ও মাথা মুণ্ডন করার মর্ধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা;

৪. সায়ী করা

সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সায়ী করা। সাফা পাহাড় থেকে সায়ী শুরু করা।

৫. মুযদালিফায় অবস্থান (ওকুফ) করা।

৬. তাওয়াফে জিয়ারাত আইয়্যামে নহরের (দিনের বেলায়) মধ্যে সম্পাদন করা।

৭. জামরায় শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করা।

৮. মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা। তবে মাথা মুণ্ডনের আগে কংকর নিক্ষেপ করা।

৯. মিকাতের বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে সদর বা বিদায়ী তাওয়াফ করা।

মনে রাখতে হবে

উল্লেখিত ওয়াজিব কাজগুলোর মধ্যে কোনো একটি ছুটে গেলেও হজ আদায় হবে। তবে ছুটে যাওয়া কাজের জন্য দম (অর্থাৎ কাফফারা স্বরূপ কোরবানি) দিতে হবে।

সুতরাং হজ পালনেচ্ছুদের এ কাজগুলো যথাযথভাবে পালনে সচেষ্ট হওয়া। ধীরস্থির ও ধারাবাহিকভাবে হজের কাজগুলো সম্পাদন করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর হজ পালনেচ্ছুদের ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পাদনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এএসএম

আরও পড়ুন