ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

পারস্পরিক বন্ধন বাড়াচ্ছে ইজতেমা

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩

মামুনূর রহমান হৃদয়

বাংলাদেশের একটি বড় ধর্মীয় জমায়েত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। আরবি ‘ইজতেমা’ শব্দের অর্থ সমাবেশ বা সম্মেলন। ধর্মীয় কোনো কাজে বহুসংখ্যক মানুষকে এক করাকে শরীয়তের পরিভাষায় ইজতেমা বলে।

বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদের সব ভ্রান্ত পথ থেকে সরিয়ে আল্লাহর রাস্তায় ফিরিয়ে এনে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে সহজ-সরল জীবনযাপন এবং আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য কল্যাণের পথচলায় ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা। তাই তো প্রতিবছর বাংলাদেশের সব বয়সের মুসলমান এতে সাড়া দেন। শত কষ্ট সত্ত্বেও ইসলামের ভালোবাসায় জীবন গড়ার প্রয়োজনে হাজির হন ইজতেমায়।

বিশ্ব ইজতেমা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতে ওয়াজ-নসিহত ও ইসলামি জ্ঞানের আলোচনা করা হয়, এর নাম ‘বয়ান’। কোরআন, হাদিস ও শরীয়তের বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত বয়ান করা হয়। মহানবির (সা.) জীবনাদর্শ এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরামদের কর্মময় জীবনের বয়ান করা হয়। আরও বয়ান করা হয় ইসলামের মূল বিষয় সম্পর্কে।

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তাবলিগ, ইসলামি দাওয়াহ অনুসারী, দ্বীনদার মুসলমানরা টঙ্গীর তুরাগ তীরে প্রতিবছর দুই ভাগে তিন দিনব্যাপী ইজতেমায় অংশ নেন। ইসলামি চিন্তাবিদ, ওলামায়ে কেরামগণ ঈমান, আকিদা, দ্বীনের দাওয়াত, ইসলামি কর্ম, দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বয়ান রাখেন।

প্রতিবছর জুমার নামাজের আগে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ইজতেমার শীর্ষ মুরুব্বিরা বয়ান করেন। ফজরের নামাজের পরেও আমবয়ান হয়। মূলমঞ্চ থেকে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে ঈমান ও আমলের ওপর বয়ানে বলা হয়, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সবাই এখানে এসেছি। পৃথিবীর মেহমানরা এসেছেন। আমার নামাজের হেফাজত করা আমার দায়িত্ব। এখান থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দাওয়াতি কাজে বের হই এবং পুরো মজমায় নিয়ত করি। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি। জামাত যত বড় হবে, নেকি তত বাড়বে। প্রত্যেককে বেশি করে নেকি আদায় করতে হবে। তাহলেই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যাবে।’

বয়ানে শীর্ষ মুরুব্বিরা বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা জন্ম ও মৃত্যুকে তৈরি করেছেন। যার আমল যত সুন্দর হবে, তার আমল তত বেশি গুণসম্পন্ন।’ আমল ও হেদায়েতি বয়ানে বলা হয়, ‘আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারলে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেবেন। সারা দুনিয়ার মানুষ কামিয়াবি চায়। তাই কামিয়াবির জন্য আল্লাহর কাছে সবাইকে চাইতে হবে।’

আমল ও দাওয়াতের মেহনত সম্পর্কে বয়ানে বলা হয়, ‘আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সুউচ্চ মর্যাদা দিয়ে ইহকালে পাঠিয়েছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াবির একমাত্র তরিকা হচ্ছে ঈমান ও আমলের মেহনত করা।’

বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তিন দিন দেশ-বিদেশের ঈমানদার, আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান শুনে আখেরি মোনাজাত করে ঈমান-আমলের দাওয়াত সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমায় অসংখ্য লোকের সমাগম হয়। দেশি-বিদেশি মুসলিমরা বাংলাদেশের ইজতেমায় অংশ নেন। তাই তুরাগ তীরের এ ইজতেমা ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী।

এসইউ/এএসএম

আরও পড়ুন