ভিডিও EN
  1. Home/
  2. ধর্ম

যারা পাবে আল্লাহর ক্ষমা ও মহাপুরস্কার

ফারুক ফেরদৌস | প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ২৫ মে ২০২৪

সুরা মুলক কোরআনের ৬৭তম সুরা, মক্কায় অবতীর্ণ সুরাটির আয়াত ৩০টি, রুকু ২টি। বেশ কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাতে এ সুরা পাঠ করলে কবরে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সুরাটি তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহর সাথে কাছে সুপারিশ করবে। সাহাবিরা এ সুরাটিকে ‘মানেআ’ বা কবরের আজাব প্রতিরোধকারী বলতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন,

سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً، تَشْفَعُ لِصَاحِبِهَا حَتَّى يُغْفَرَ لَهُ: تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ.

কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা আছে। যে ব্যক্তি নিয়মিত ওই সুরা পাঠ করবে তার জন্য সুরাটি ক্ষমা আদায় করা পর্যন্ত সুপারিশ করতে থাকবে। সে সুরা হল, ‘তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক’। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০, সুনানে তিরমিজি: ২৮৯১)

সুরা মুলকের আলোচ্যবিষয় আল্লাহর বড়ত্ব, তার ক্ষমতার বিভিন্ন নিদর্শন, আখেরাতের জীবন, মুমিনদের পুরস্কার, কাফেরদের শাস্তি ইত্যাদি।

সুরা মুলকের ১২-১৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন,
(১২)
إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ
ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।
নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।

(১৩)
وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
ওয়া আসিররূ কাওলাকুম আওয়িজহারূ বিহী ইন্নাহূ আলীমুম বিযাতিস সুদূর।
তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।

(১৪)
ألا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
আলা ইয়া‘লামুমান খালাকা ওয়া হুওয়াল লাতীফুল খাবীর।
যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত।

(১৫)
هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولاً فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِنْ رِزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা যালূলান ফামশূ ফী মানাকিবিহা ওয়া কুলূ মির রিঝকিহী ওয়া ইলাইহিন নুশূর।
তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিজিক থেকে আহার কর। পুনরায় জীবিত হয়ে তাঁর কাছেই যেতে হবে।

এ আয়াতগুলো থেকে যে শিক্ষা ও নির্দেশনা আমরা পাই:

১. আল্লাহকে না দেখে তার ওপর ইমান আনা, তাকে ভয় করা ও নেক আমল করার কারণে মুমিনরা আখেরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, ক্ষমা ও মহাপুরুস্কার লাভ করবে।

২. আল্লাহ সুবাহনাহু ওয়াতাআলা অন্তর্যামী। মানুষ নিজের চিন্তা, বিশ্বাস, নিয়ত প্রকাশ করুক বা না করুক সবই তিনি জানেন। তাই অন্তরে কুফর রেখে ‍মুখে ইমান এনে আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়া সম্ভব নয়। একইভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে শুধু তার সন্তুষ্টির জন্য; মানুষকে দেখানোর নিয়তে নেক কাজ করলে সওয়াব পাওয়া যাবে না।

৩. আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা পৃথিবীতে তার রিজিক ছড়িয়ে রেখেছেন। জীবিকা উপার্জনের জন্য দূর-দূরান্তে সফর করা বৈধ। হালাল রিজিক উপার্জনের জন্য কৃত পরিশ্রমের প্রতিদানও আল্লাহর কাছে পাওয়া যাবে।

ওএফএফ/এমএস

আরও পড়ুন