ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

রোয়ানু : সোনাগাজীতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ২৬ মে ২০১৬

ফেনীর সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। জোয়ারের পানি নামার পর থেকে এসব মানুষ দল বেঁধে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে প্রয়োজনীয় খাবার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোয়ানুতে ক্ষতিগ্রস্তরা।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে উপজেলার চর চান্দিয়া ও চর খোন্দকার ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। চিরচেনা বাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় অনেকে হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠছেন। কারও ঘরের চাল নেই, কারও উঠানে ঘরের টিন-বেড়া বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে আছে। ঘরের সব কিছু ঠিক থাকলেও ব্যবহার্য জিনিপত্র নেই কারও ঘরে। গোটা এলাকা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণ হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙা বাড়িঘর মেরামতের চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবে উপজেলার তিন ইউনিয়নের চর খোয়াজ, চর খোন্দকার, জেলেপাড়া, দক্ষিণ চর চান্দিয়া, পূর্ব বড়ধলী, চর চান্দিয়া বেড়িবাধের বাইরের অংশ, বাহিরচর, চর নারায়ণ ও চর আবদুল্লাহ এলাকায় ৫ থেকে ৬ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুই শতাধিক কাঁচা ঘর। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মসজিদ-মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়। এসব এলাকায় বাড়িঘরে জোয়ারের পানি প্রবেশের পাশাপাশি কৃষিজমি ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে রাস্তার গাছপালা, ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের।


এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহের কথা জানানো হলেও সোনগাজীতে খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দুর্যোগ এলাকার মানুষ। তাদের দাবি, দু’একটি আশ্রয়কেন্দ্রে শনিবার রাতে শুকনো খাবার দেয়া হলেও আর কোনো খাবার জোটেনি তাদের। অনাহারে থেকে নিজেদের ঘরে ফিরছেন তারা। জোয়ারের পানিতে সব ভেসে যাওয়ায় না খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

রোয়ানুতে ক্ষতিগ্রস্ত সেলিমা আক্তার (৪৫) জানান, শনিবার দুপুরে আশ্রয়কেন্দ্রে সামন্য চিড়া-মুড়ি দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো খাবার আমরা পাইনি। বাড়িতে এসে দেখি জোয়ারের পানি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।


সন্ধ্যা রানী (২৫) নামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শনিবার রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে শুকনো খাবার ২ শিশু সন্তানের কপালে জুটেছিল। এরপর থেকে তাদের মুখে কোনো আহার দিতে পারিনি। ঘরে সামান্য চাল রেখে গিয়েছিলাম। জলোচ্ছ্বাসে তাও ভেসে গেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজী মজিবুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এখনো অনেকেই সরকারি কোনো সাহায্য পায়নি। খাদ্য চাহিদার কথা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।


সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আলম জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছি। তালিকা সম্পন্ন হলে সরকারের কাছে সাহায্যের পাঠানো হবে।


সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফা হক খাদ্য সরবরাহ না করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, প্রতিটি সাইক্লোন সেন্টারে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে। খাদ্য বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

বিএ

আরও পড়ুন