ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

পাহাড়ে প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছেন মশিউর রহমান

প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৬

যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ছিল স্বপ্ন, সেখানকার মানুষের হাতের মুঠোয় এখন তথ্যপ্রযুক্তি। ঘরে বসে অনায়াসে সব তথ্যের আদান-প্রদান করতে পারছে একে অপরের সঙ্গে। সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। এভাবেই মাত্র এক বছরের মধ্যে এনালগ পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে মাটিরাঙ্গাবাসীকে তথ্যপ্রযুক্তির এক সুতোয় বেঁধেছেন সবাইকে।

তিনি পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান। প্রশাসনিক কাজের বাইরে সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় বিএম মশিউর রহমান ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে নিজের সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

শুধু সফলতাই অর্জন করেননি, মাটিরাঙ্গায় যোগদানের পর গত এক বছরে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার প্রতিটি কোণায় তথ্যপ্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলাকে নতুন পরিচিত করে তুলেছেন সবার মাঝে। পাহাড়ে তথ্যপ্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।


বিএম মশিউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে চাকরি জীবনের ৬ বছরের মাথায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ই-গভর্নেন্স আইসিটি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন এ কর্মকর্তা। এছাড়াও হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সেরা উদ্যোমী কর্মকর্তার পুরস্কারও লাভ করেছেন।

ঢাকাস্থ বিয়াম থেকে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ইউএনও হিসেবে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। যোগদানের পরপরই উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে মনোযোগী হন তিনি। মাত্র এক বছরের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত করেন পাহাড়ি জনপদ মাটিরাঙ্গাকে।


একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি উপজেলার সব তথ্যভাণ্ডার নিয়ে ‘মাটিরাঙ্গা অ্যাপস’ নামের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনস তৈরি করেন। যা দেশের প্রথম উপজেলা অ্যাপস। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ অ্যাপস উদ্বোধন করেন। মোবাইল অ্যাপস ছাড়াও তিনি মাটিরাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার। যা ২০১৬ সালের ৯ মার্চ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। এ ছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যাপস ‘বৈচিত্রময় খাগড়াছড়ি’ তৈরি করে সারাদেশে সাড়া ফেলেন তিনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিতে মাইলফলক অবদান রাখায় বিএম মশিউর রহমান খাগড়াছড়ি জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ ই-সেবা প্রদানকারী ইউএনওর পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ব্যক্তিগত (কারিগরি বিভাগ) ক্যাটাগরিতে জনপ্রশাসন পদক লাভ করেন তিনি।


বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের দ্বৈততা পরিহারকল্পে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার তৈরি করেছেন। যার মাধ্যমে মাটিরাঙ্গায় গৃহিত সব প্রকল্পের ডাটাবেজ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন বিভাগ থেকে একই প্রকল্প একাধিকবার গ্রহণের সুযোগ বন্ধ হবে। ফলে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্নীতিও কমে যাবে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতাভোগীদের অনলাইন ডাটাবেজ সফটওয়্যার তৈরি করেছেন। যার মাধ্যমে ভাতা পেতে ইচ্ছুক জনগোষ্ঠী আগে থেকেই ভাতা পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরকে ভাতার জন্য অন্তর্ভুক্তি করা হবে।

প্রশাসন ক্যাডারের পাঁচ মাসব্যাপি আইন ও প্রশাসন কোর্সে প্রথমস্থান অধিকার করে সরকারিভাবে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফরের সুযোগ পান তিনি। তাছাড়া বিসিএসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে তৃতীয়স্থান অধিকার করে সফর করেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে গেল বছর ভারতে স্থানীয় সরকার বিষয়ে পাঁচ দিন এবং সুশাসন বিষয়ে ১৫ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।


তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে তার কাছে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ ছাড়াও দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মাটিরাঙ্গার প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ওয়েবসাইট নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/বিএ