১৩৫ দিনের বিচার শেষ হয়নি ৮ বছরেও
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠালেও আট বছরেও তা শেষ হয়নি। আইনে ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষের নির্দেশনা থাকলেও এখন এর সময়সীমা নেই বলছে রাষ্ট্রপক্ষ।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০২ সালের আইনের ১০ ধারায় উল্লেখ আছে যে, ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে। ৯০ দিনের মধ্যে না পারলে কারণ দেখিয়ে আরো ৩০ দিন সময় নিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। এতেও যদি না পারে আরো ১৫ দিন সময় নিতে পারবে। তবে সুপ্রিম কোর্টকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। উপরোক্ত দিনসমূহের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে না পারলে সেটি আগের আদালতে ফেরত দিতে হবে।
২০০৮ সালে মামলা দুটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলা দুটি তদন্তের জন্য একবার ফেরত আসলেও তা আবার সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের পর দ্রুত বিচারে পাঠানো হয়। ১২ বছর আগের আলোচিত হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুটি মামলা এখন চলছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে। মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সৈয়দ রেজাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা দুটি তদন্তে অনেক সময় লেগেছে। মামলায় আসামি ও সাক্ষীর সংখ্যা অনেক হওয়ায় তা শেষ করতে সময় লাগছে।
তিনি আরো বলেন, মামলাটি দুটি দ্রুত বিচার আইনে চলছে। দ্রুত বিচার আইনে ১৩৫ কার্যদিবসে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও এখন হাইকোর্টের নির্দেশে শেষ করার কোন সময়সীমা নেই।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, রাজনৈতিকভাবে আসামিদের হয়রানির জন্য মামলা করেছে আওয়ামী লীগ। মামলা শেষের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ কালক্ষেপণ করছে।
আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী এম হেলাল উদ্দিন বলেন, আসামি ও সাক্ষীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সময় বেশি লাগছে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালায়। ভয়াবহ ওই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তবে শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
২০০৮ সলের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য নেন ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটির দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহ্হার আখন্দ।
তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। তবে মামলায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তার নাম বাদ দেওয়ায় এখন আসামির সংখ্য ৫১। এর মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পলাতক ১৮ জন। জামিনে রয়েছেন আটজন এবং কারাগারে ২৫ জন।
জেএ/এএইচ/আরআইপি