ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

তিনি সবার ‘লাভলী আপা’

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ০৮ মার্চ ২০১৮

সাধারণ গৃহবধূ থেকে আজ তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। রাজনীতির মাঠেও রয়েছে সমান পদচারণা। সাধারণ মানুষের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি।

সমাজের যেকোনো পর্যায়ের নারীরা যাকে কাছে ডাকলেই পাশে পায়, বৈষম্যের শিকার নারীদের পাশে থেকে অধিকার আদায়ে যিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি হলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও উন্নয়ন সংগঠন নারী ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা লাভলী। তিনি মূলত ‘লাভলী আপা’ নামেই নিজ উপজেলা তাড়াশ তথা সিরাজগঞ্জে অধিক পরিচিত।

হোসনে আরা লাভলী একজন স্ত্রী, একজন মা, একজন গৃহিণী। তিনি যেমন করে তার সন্তানদের কথা ভাবেন, ঠিক তেমনই ভাবেন তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা।

jagonews24

সফল নারী হোসনে আরা লাভলী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার সদরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস মাগুড়া বিনোদ গ্রামে। বাবা সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বেসরকারি সেক্টর পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের সহকারী সর্বাধিকনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন। আর মা মরহুমা জাহানারা মিলন তাড়াশ উপজেলায় মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাগো নিউজের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপের সময় জানালেন নিজের সফলতা ও শিখরে ওঠার গল্প।

নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে হোসনে আরা লাভলী বলেন, সংগ্রাম করেই জীবনে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে হয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ‘মা’ জাহানারা মিলনের অনুপ্রেরণা নিয়ে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। শিক্ষাজীবন শেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৩ সালে সমাজসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নারী ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ (এনএসকেএফ) প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে কঠোর পরিশ্রম ধৈর্য এবং শত প্রতিকূল অবস্থা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছি। প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি এখন শুধু সিরাজগঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

এনএসকেএফ’র কর্মকাণ্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সংগঠন ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশু অধিকার, প্ল্যানিং-মনিটরিং, নেটওয়ার্কিং, অ্যাডভোকেসি, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, হিসাব ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকারসহ অসংখ্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। সেই প্রশিক্ষণের আলোকে এনএসকেএফকে সাজানো হয়েছে।

হোসনে আরা লাভলী বলেন, আর্থিকভাবে নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবারে, সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে ও পরিবারে তাদের মূল্যায়ন করা হয়। এজন্য ‘এনএসকেএফ’ থেকে হতদরিদ্র নারী-কলেজ পড়ুয়া দরিদ্র মেয়ে ও বিধবাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছি। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছি। যাতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। গত ২০ বছরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার নারীকে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রায় ২ লক্ষ মানুষকে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন, নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গণসংস্কৃতি, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এখনও এই প্রতিষ্ঠান থেকে নারী অধিকার ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারীদেরকে অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার কর্মসূচি চলমান রয়েছে। অসহায়, দরিদ্র, নির্যাতিত, স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

jagonews24

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণে নানাভাবে কাজ করেছি। নির্বাচিত প্রতিনিধি হলে জনগণের সেবা আরও ভালোভাবে দেয়া যায়। তখনই সিদ্ধান্ত নিই জনগণের কাজ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে এলাকার উন্নয়ন, জনগণের সেবা করা, সর্বোপরি নারী উন্নয়ন ও নারীদের কল্যাণে কাজ করার জন্যই স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছি। ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসন (৭, ৮ ও ৯) সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছি। সেই থেকে আজ অবধি তাড়াশ ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা ও বিভিন্ন ক্লাবে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছি।

‘লাভলী আপা’ বলে ডাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমার এলাকার মানুষ যখন আমাকে ডাকে আমি তখনই তাদের কাছে ছুটে যাই। যেকোনো বিপদে-আপদে ডাকলেই জনগণ আমাকে কাছে পায়। কখনো কাউকে কোনো কারণ দেখাই না। বরং তার ওই সমস্যার সমাধান করাই আমার কাজ মনে করি। এ জন্যই হয়তো সবাই আমাকে লাভলী আপা বলে ডাকে। আমি তাদের ডাকে যেমন সাড়া দিই তেমনি দারুণ উপভোগও করি।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/আরআইপি

আরও পড়ুন