ভিডিও EN
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ, জালিয়াতিতেই ধরা

জসীম উদ্দীন | প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৮

নিজেরা ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংকে নিয়োগ পান। কেউ প্রবেশনারী অফিসার, কেউ আইটি অফিসার। নিজেরা চাকরি পাওয়ার পরও জালিয়াতি বন্ধ করেননি বরং এটা নিয়ে ব্যবসা করেন। বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএস ও বিভিন্ন ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের পাস করাতে গিয়ে ধরা পড়লেন দুই সরকারি ও এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা। তবে ঘটনার মূল হোতা রয়ে গেছেন অধরা।

ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা হলেন- সোনালী ব্যাংকের আইটি অফিসার অসিম কুমার দাস, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারী অফিসার মো. সোহেল আকন্দ ও পূবালী ব্যাংকের প্রবেশনারী অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও ফার্মগেটে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের মধ্যে এ তিনজন অন্যতম। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর রহমান ওরফে সোহান, নাদিমুল ইসলাম, মো. এনামুল হক ওরফে শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান ওরফে শাহিন। এসময় তাদের কাছ থেকে ক্ষুদে ব্যাটারি, ইয়ারফোন, মোবাইল ফোনের ন্যায় কথা বলার সিম সংযুক্ত মাস্টারকার্ড জব্দ করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, তারা নিজেরাই পরীক্ষায় জালিয়াতি করে পাস ও নিয়োগ পান। নিজেরা চাকরি পাওয়ার পরও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেই জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, চক্রটি বিসিএস, মেডিকেল ও ব্যাংক পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করে। পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধদের ডিভাইস সরবরাহ করে। তারা পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে ফাঁস করে দেয়। এরপর বাইরে থাকা প্রশ্ন এক্সপার্টদের মাধ্যমে ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত কানে লাগানো ক্ষুদে হেডফোনে এমসিকিউ ভরাট করে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীরা।

তিনি বলেন, জনৈক পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চু এই চক্রের মূলহোতা। তার বিশ্বস্ত সহযোগী জনৈক কার্জন। কার্জন পরীক্ষায় জালিয়াতির জন্য বিশেষ ডিভাইসগুলো সরবরাহ করে।

chiting-2

তিনি আরও বলেন, চক্রের সদস্যরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। চক্রের কয়েকজন পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। চক্রের আরেক অংশ পরীক্ষা শুরু হবার পর পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার জন্য ডিভাইস ব্যবহার ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অন্য অংশটি ডিভাইস সরবরাহে সহযোগিতা করে। কল রিসিভ করা গেলেও ওই ডিভাইসে কল করা যায় না। তবে ডিভাইসে ইনকামিংকল অটো রিসিভ হয়। ওপার থেকে উত্তর শুনে সেট কোড মিলিয়ে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সোনালী ব্যাংকের আইটি অফিসার অসিম কুমার দাস, পূবালী ব্যাংকের প্রবেশনারী অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. সোহেল আকন্দ একইভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পান। তবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তারা। পান্থপথে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে তৈরি করেন সাব সেন্টার। সেখান থেকেই মূলতঃ প্রশ্নফাঁস, ফাঁস করা প্রশ্ন এক্সপার্টদের মাধ্যমে সমাধান ও ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, একেক জন পরীক্ষার্থী পাস হওয়ার জন্য ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হন। নিয়োগ পরীক্ষা ও চাকরির গুরুত্ব অনুযায়ী ওই টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করে চক্রটি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের এডিসি গোলাম সাকলাইন সিথিল জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক আবু জাফর মজুমদার রুবেল, উপজেলা কর্মকর্তা ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা পুলকেশ ও এবং ডিভাইস সরবরাহকারী কার্জন নামে তিন জন এই চক্রের মূল হোতা। তবে তারা পলাতক, গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার হলে চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াত চক্রের আদ্যোপান্ত জানা যাবে আশা করি।

জেইউ/জেএইচ/জেআইএম

আরও পড়ুন