ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

সেন্টমার্টিনে নির্ভয়ে ঘুরতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:২১ এএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ছেঁড়া দ্বীপে। শুরুতে উৎকণ্ঠা কাজ করে— কী হবে সেখানে, যদি সবকিছু ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে, মানুষগুলো কেমন ইত্যাদি। মজার ব্যাপার হলো, সেন্টমার্টিনের প্রতিটি মানুষের চলাফেরা অত্যন্ত স্বাভাবিক। একে অন্যের বিপদে যতটা সম্ভব সবাই এগিয়ে আসে।

তারা শুধু নিজেদের সাহায্যে এগিয়ে আসে না, অন্যদেরও সাহায্য করে। কোনো পর্যটক রাত কাটাতে রুম পাচ্ছেন না কিংবা এলাকা চিনতে পারছেন না, স্থানীয় যে কাউকে বললেই তারা সাহায্য করেন। দূরত্ব বেশি হলে রিকশা-ভ্যান ভাড়া করে কীভাবে যেতে হবে সেই উপায়ও জানিয়ে দেন তারা।

free-mov1

স্থানীয়দের মতে, সেন্টমার্টিনে চুরি-ছিনতাইয়ের প্রশ্নই আসে না। অনেক ভ্রমণপিপাসু রাতের বেলায় সমুদ্রে গর্জন শুনতে আলাদা থাকার জন্য রুম নেন না। তারা সমুদ্র পাড়েই গল্পে-আড্ডায় রাত কাটান। স্থানীয় কেউ এসে প্রশ্ন করবে না কেন এখানে এসেছেন, এতো রাতে আছেন কেন, আপনার জেলা কোথায়।

স্বাধীনভাবেই ভ্রমণপিপাসুদের চলাফের রয়েছে সেন্টমার্টিনে। রাত কাটাতে অনেকেই গানের আড্ডা দেন, গিটার বাজিয়ে রাত পার করেন। সঙ্গে চলে বারবিকিউ পার্টি। এটা হয় মূলত বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এলে। আবার চাইলে কটেজ, রিসোর্ট, হোটেল-মোটেলও আছে পর্যাপ্ত। সকাল হতে না হতেই সমুদ্রে নেমে পড়েন সবাই, গা ভাসিয়ে দেন ঢেউয়ের সঙ্গে।

free-mov1

কিশোরগঞ্জ থেকে সেন্টমার্টিন এসেছেন তিন বন্ধু সুমন, শামিম ও সাইফুল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাগর তীরে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি বেড়াতে, ইচ্ছা করেই কোনো রুম ভাড়া নিইনি। এখানে রুমে থাকলে রাতের সমুদ্র উপভোগ করতে পারব না। সমুদ্রের পাড়েই রাত কাটিয়ে দেব।’

অনেকেই আবার রুম ভাড়া নেন। রাতে সমুদ্র পাড়ে সময় কাটিয়ে রুমে চলে যান তারা। চুয়াডাঙ্গা থেকে পরিবার নিয়ে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘রাতের একটা সময় এখানে কাটিয়ে ভোরের দিকে রুমে চলে যাব। এখানে কোনো ডাকাতির ভয় নেই, মন চায় শুধু রাত নয়, পুরো জীবন কাটিয়ে দিই সমুদ্র পাড়ে। উপভোগ করি সমুদ্রের তর্জন-গর্জন।’

free-mov1

নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের মূল পেশা মাছ শিকার। এটার পাশাপাশি বছরের তিন-চার মাস পর্যটকের আগমনে আমাদের বাড়তি একটা আয় হয়। এ সময় আমাদের কেউ হোটেল, রেস্তোরাঁ ব্যবসা করে বাড়তি আয় করেন।’

free-mov1

তিনি বলেন, ‘ভ্রমণপিপাসুরা আমাদের বাড়তি আয়ের জোগানদাতা, আমাদের অতিথি তারা। অতিথিদের কেউ কিছু বললে আমরা কী তাদের ছেড়ে দেব? রাত ১২টার পরও একা একটা মেয়ে হেঁটে চলাচল করলেও তাকে কেউ কিছু বলবে না। এখানে চুরি-ছিনতাই নেই। কেউ ডাকাতি করে এখান থেকে পালাতে পারবে না। এ দ্বীপের চারপাশ সমুদ্র। হয়তো এটা ভেবেই অনেকে খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকেন।’

ইএআর/এমএসএইচ/এসএইচএস/এমএস