ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

সাম্প্রতিক সহিংসতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত

প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৬

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে সেগুলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। সম্প্রতি দেশের জঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে জাগো নিউজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ।

জঙ্গিবাদের পটভূমি নিয়ে জিয়া রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকাতায় ধর্মকে রাজনীতির মধ্যে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তানি চিন্তা চেতনাকে যারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন স্বভাবতই তারাই জঙ্গিবাদকে মদদ দিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পুরো দেশকে উল্টো পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেসময় আর্টিকেল ৩৮ রদ করে নিষিদ্ধ ৪টি ইসলামি দলকে রাজনীতির সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছিলেন। আর তাদের রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান।

তিনি আরো বলেন, ৮০ এবং ৯০ এর দশকে আমরা রগ কাটার রাজনীতি দেখেছি। বিভিন্ন দেশ থেকে চ্যারেটির নামে প্রচুর টাকা দেয়ার ঘটনা দেখেছি। মজার বিষয় হচ্ছে এ পলিটিক্যাল পার্টিকে (জামায়াতে ইসলাম) ইউনাইটেড স্টেটস সবসময় সহযোগিতা করছে। এখনো করছে এটাও কিন্তু তাদের ফরেন পলিসির অংশ। এ ধরনের প্রতিটি পলিটিক্যাল পার্টি তাদের জীবনীটাকে নিশ্চিত করতে সব জায়গায় মাদরাসার বিস্তার ঘটিয়েছে। এবং আমরা দেখেছি যে প্রায় প্রত্যেকটি মাদরাসা যেগুলো অগণতান্ত্রিক ও ই-রেসনাল চিন্তাভাবনায় লিপ্ত হচ্ছে। এসব ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তানে জেহাদি সৈন্য পাঠানো, রগ কাটার রাজনীতি হচ্ছে বাংলাদেশে।

zia

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর অস্তিত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, আইএস আছে, আইএস নাই বলার মধ্যে আমি রাজনীতি ছাড়া আর কোন কিছু পাই না। কারণ জঙ্গিবাদ জঙ্গিবাদই। এই ডিবেটটা রাখাই হয়েছে রাজনীতির জন্য। তবে বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব আছে বলে আমি মনে করি না।

জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নানা রকম সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলাতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা জঙ্গি দমনে চমৎকার কর্মদক্ষতা দেখাচ্ছে।

দেশের জঙ্গি পরিস্থিতি অন্যান্য দেশের মতো ভয়াবহ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিবাদ যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে বাংলাদেশে কখনো এ পর্যায়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

এর মুখ্য কারণ হিসেবে জিয়া রহমান বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে সহিংসতাগুলো তৈরি করা হয়েছে সেগুলো কৃত্রিম। তবে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকাটা আরো গণতান্ত্রিক হতে হবে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জিয়া রহমান বলেন, ‘নিশ্চয়ই বলবো না যে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবে এটাও বলবো না যে আমরা ব্ল্যাক লিস্টে চলে গেছি।’

গত ১০ বছরে দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন ঘটনা দিগুণ হারে বেড়েছে। কি কারণে ভয়াবহ হারে বাড়ছে এই নির্যাতন? জানতে চাইলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সমাজ কাঠামোতে পুঁজিবাদি মূল্যবোধ, নগরায়ন, শিল্পায়ন, ইন্টারনেট, ফেসবুক ও গ্লোবালাইজেশান ঢুকে গেছে। ফলে পারিবারিক বন্ধন আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। একটা সোসাইটি যখন হঠাৎ করে পরিবর্তন হতে শুরু করে তখন সেটির মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। আমরা এখন সে সময়টা পার করছি। এ কারণেই নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।’

এমএইচ/এআর/এসএইচএস/এবিএস