ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

খালেদ মাহমুদ সুজন

‘বিসিবির উচিত সরকারের সঙ্গে কথা বলে একটা বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া’

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৬:৩১ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

দৃশ্যপট হঠাৎই ঘোলা হলো। একতরফাভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডই পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দিলো। বাংলাদেশ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে নিষেধ করলো ভারতীয় ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিসিআই। বিসিসিআইয়ের সে নির্দেশ মেনে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে।

কেন, কী কারণে কাটারমাস্টারকে আইপিএলে না খেলার নির্দেশ? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অতিরঞ্জিত খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে আসার পর মোস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানায় দেশটির বেশ কিছু উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠনের কয়েকজন হিন্দু রাজনৈতিক নেতা।

অবশেষে সেই সব সংগঠনের হুমকিকে ভয় পেয়ে বিসিসিআই মোস্তাফিজকে খেলাতে নিষেধ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। কেকেআর কর্তৃপক্ষও সুবোধ বালকের মতো সে নির্দেশ মেনে সোয়া ৯ কোটি রুপিতে কেনা মোস্তাফিজকে না খেলানোর ঘোষণা দিয়েছে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই তা মিডিয়ার মাধ্যমে ভারত ছাপিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে সংগত কারণেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রিকেট অনুরাগীর মনে রাজ্যের ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে।

সবার একটাই কথা, ভারতের উগ্রবাদী সংগঠনের হুমকি-ধামকি ও দাবির মুখে যদি বিসিসিআই মোস্তাফিজের আইপিএল খেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে এক মাস পর যে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সেখানে বাংলাদেশ দল খেলতে যাবে কীভাবে?

বাংলাদেশের গ্রুপের ৪টি ম্যাচের তিনটিই আবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। একটি মুম্বাইতে। ভারত সরকার, বিসিসিআই আর কেকেআর মিলে এক মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যখন ১৫ ক্রিকেটার, কোচিং-সাপোর্টিং স্টাফসহ বাংলাদেশের যে ২৫–৩০ জনের বহর যাবে, তার নিরাপত্তা কে দেবে?

কাজেই বাংলাদেশের উচিত আইসিসির মাধ্যমে ভারতকে জানিয়ে দেওয়া, ‘আমরাও তোমাদের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলব না।’

বাংলাদেশের সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগীদের সাথে সহমত পোষণ করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের লড়াকু যোদ্ধা খালেদ মাহমুদ সুজন। আজ শনিবার পড়ন্ত বিকেলে সিলেটে জাগো নিউজের সাথে আলাপে নোয়াখালী এক্সপ্রেস কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় এরই মধ্যে যা ঘটেছে, তা আমাদের জন্য লজ্জার। আমাদেরও উচিত এর একটা বিহিত করা।’

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, কোচ, টেকনিক্যাল ও টিম ডিরেক্টর বলেন, ‘আমাদের দেশের অন্যতম সেরা বোলার মোস্তাফিজ সোয়া ৯ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছে। কেকেআরের হয়ে তার এবারের আইপিএল খেলার কথা। অথচ কয়েকটি উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠনের হুমকি ও দাবির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই মোস্তাফিজকে না খেলানোর নির্দেশ দিলো। আর কেকেআরও তা মেনে মোস্তাফিজকে না করে দিলো। এরকম পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় আমাদের মানে বিসিবির, যত দ্রুত সম্ভব একটা বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

সিলেটে অবস্থানরত সুজনের কথা, ‘আমি মনে করি বিসিবির উচিত সরকারের সঙ্গে কথা বলা। তারপর একটা স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে আইসিসির কাছে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া। সে সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের সম্মান-মর্যাদা অক্ষুন্ণ থাকবে।’

কী সেই প্রস্তাব? সুজন সরাসরিই বয়কটের কথা বললেন, ‘আমাদের উচিত আইসিসির কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া যে, আমরা ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলব না।’

তিন যুগ ধরে দেশের ক্রিকেটের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত খালেদ মাহমুদ সুজনের মতে, ‘আমার মনে হয় সম্ভাব্য সেরা সমাধান হতে পারে সেটাই। যেহেতু ভারত নিরাপত্তার দোহাই তুলে মোস্তাফিজকে আইপিএল খেলতে নিষেধ করেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তথা ভারত সরকার আমাদের জাতীয় দলের বহরের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। আর দিতে চাইলেও আমরা ওই ঝুঁকির মধ্যে যাব কেন? তার চেয়ে আইসিসির মাধ্যমে ভারতকে বলে দেওয়া উচিত-আমরা তোমাদের দেশে খেলতে যাব না। আমাদের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় দিতে হবে। আর আমরা ফাইনাল খেললেও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে গিয়ে খেলব। ভারতে না।’

এআরবি/এমএমআর